দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ঋণ গ্রহণে উচ্চ সুদহার বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপের মর্টগেজ বাজারও এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধির পথে। সুদহার বেশি হওয়ায় বাড়ি ক্রয়ে ঋণ নেয়ার হার কমায় চলতি বছর এ খাতের প্রবৃদ্ধিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
ইউরো অঞ্চলে বাড়ির দামও অনেক কমেছে। যে কারণে চলতি বছর মর্টগেজের বাজার ১ দশমিক ৫ ও ২০২৪ সালে ২ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কনসালট্যান্সি সংস্থা আরনস্ট অ্যান্ড ইয়াং (ইওয়াই)। যেখানে গত বছর এর হার ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ।
সংস্থাটি জানায়, ইউরোজোনে সুদহার ক্রমাগত বাড়ছে। সেপ্টেম্বরে তা সর্বোচ্চ ৪ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া চড়া মূল্যস্ফীতির চাপ মর্টগেজের প্রতি আকর্ষণ কমিয়েছে।
ইওয়াইয়ের ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজিং পার্টনার হিসেবে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, ভারত ও আফ্রিকায় দায়িত্ব পালন করছেন ওমর আলী। তিনি বলেন, ‘আবাসন খাত সবচেয়ে খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইউরোপে বসবাসরতদের জন্য উচ্চ জীবনযাপন ব্যয় ও ঋণ গ্রহণের সুদহার বাড়ি কেনা থেকে তাদের পিছিয়ে রাখছে। ফলে মর্টগেজের পরিমাণ এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্নে।’
ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইউরোপে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২২ সালের জুলাই থেকে টানা ১০ বার সুদহার বাড়িয়েছে। এর প্রভাবে ইউরোজোনের ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রদানের হারও কমে এসেছে। সেপ্টেম্বর থেকে ইসিবি সুদহার ৪ শতাংশে ধরে রেখেছে। বিনিয়োগকারীদের মতে, আগামী বছরের দ্বিতীয়ার্ধের আগে সুদহার কমানোর কোনো সম্ভাবনা নেই।
গ্রীষ্মে বাড়ির দাম ও বিক্রি কমার পর যুক্তরাজ্যের আবাসন খাত পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। কিন্তু সুদহারের প্রভাবে ইউরোজোন এখনো অনেক পিছিয়ে।
গতকাল প্রকাশিত ইওয়াইয়ের বার্ষিক ইউরোপিয়ান ব্যাংক লেন্ডিং ফোরকাস্ট অনুসারে, ঋণ প্রদানে কঠোর পদক্ষেপে ইউরোজোনের আবাসন খাতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এ কারণে মর্টগেজের প্রতি গ্রাহকের আগ্রহ অনেকটা কমেছে।
ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, ভারত ও আফ্রিকায় ইওয়াইয়ের ব্যাংকিং ও মূলধন বাজার নিয়ে কাজ করছেন নাইজেল মডেন। তিনি বলেন, ‘পুরো বছর সুদহার বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক কারণে ইউরোপের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছে। সেই সঙ্গে অঞ্চলটির ব্যাংকগুলোও নতুন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছে।’
ইওয়াইয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপের মর্টগেজ বাজার ৩ দশমিক ৩ ও ২০২৬ সালে ৩ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। এছাড়া ইউরোপিয়ান ব্যাংকগুলোর ঋণ দেয়ার হার চলতি বছর ২ দশমিক ১ শতাংশ বাড়ার কথাও বলা হয়েছে।










