ভিয়েতনামের কফি রফতানিতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে পানীয় পণ্যটির রফতানি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। খবর রয়টার্স।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জাহাজীকরণসংক্রান্ত বেশকিছু জটিলতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে ভিয়েতনাম। তার ওপর দেশটিতে কফি উৎপাদনও বাড়তির দিকে। এ পরিস্থিতিতে ঊর্ধ্বমুখী দামের সুবিধা নিতে রফতানি বাড়াচ্ছে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এ দেশ।

ভিয়েতনাম বিশ্বের শীর্ষ রোবাস্তা কফি উৎপাদক ও রফতানিকারক। দেশটির জেনারেল স্ট্যাটিসটিকস অফিসের দেয়া তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ভিয়েতনাম সব মিলিয়ে ৪৮ লাখ ব্যাগ (প্রতি ব্যাগে ৬০ কেজি) কফি রফতানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি বেড়েছে ২ লাখ ৯৩ হাজার ব্যাগ। বিশ্ববাজারে পণ্যটির ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে রফতানি আয় বেড়েছে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ। দুই মাসে দেশটি ৬৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারের কফি রফতানি করে। শুধু ফেব্রুয়ারিতেই ভিয়েতনাম ৩০ কোটি ৪০ লাখ ডলার মূল্যে ১ লাখ ৩০ হাজার টন কফি রফতানি করেছে।

যদিও ভালো দাম না পাওয়ায় বছরের শুরুর দিকে ভিয়েতনামের কৃষকরা কফি বিন বিক্রি বন্ধ রেখেছিলেন। ফলে এশিয়ার প্রধান কফি বাজারটিতে পণ্যটির বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে। ভিয়েতনামের সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডের কৃষকরা সে সময় প্রতি কেজি কফি ৩৮ হাজার ৮০০ থেকে ৪০ হাজার ৭০০ ডংয়ে বিক্রি করেন। জানুয়ারির শুরুতে সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডের এক ব্যবসায়ী জানান, কফি বিন বাজারে ছাড়ার ক্ষেত্রে দাম খুব বেশি আকর্ষণীয় নয়। এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে জাহাজীকরণ প্রতিবন্ধকতার কারণে পণ্যটির চাহিদাও দুর্বল। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কফির মাত্র ২০-৩০ শতাংশ বিক্রি করেছেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

মে মাসের সরবরাহ চুক্তিতে ভিয়েতনামের ব্যবসায়ীরা ৫ শতাংশ ব্ল্যাক ও ব্রোকেন গ্রেড-২ রোবাস্তা কফিতে টনপ্রতি ২৫০-২৭০ ডলার করে মূল্যছাড় দিয়েছিলেন। কোনো কোনো ব্যবসায়ী টনপ্রতি ৪০০ ডলার মূল্যছাড়ের কথাও জানিয়েছিলেন।

দেশটির শুল্ক বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, বিদায়ী বছরের ডিসেম্বরে ভিয়েতনামের কফি রফতানি নভেম্বরের তুলনায় ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩৪৯ টনে। কিন্তু বার্ষিক রফতানিতে ধস নেমেছে। ২০২০ সালের তুলনায় রফতানি দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। বিদায়ী বছর মোট ১৫ লাখ ৬০ হাজার টন কফি রফতানি করে দেশটি। বছরজুড়ে লকডাউন, সরবরাহ চেইনে সংকট, জাহাজীকরণ ব্যয় বৃদ্ধি, কনটেইনারের অভাবসহ নানা কারণে কফি রফতানিতে বিঘ্ন ঘটেছে।