২০২৩-২৪ বিপণন মৌসুমে তুলার বৈশ্বিক উৎপাদন চার বছরের সর্বোচ্চে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস মিলেছে। মৌসুম শেষে উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১১ কোটি ৬৭ লাখ বেলে। মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দিয়েছে। গত মৌসুমের চেয়ে উৎপাদন চার লাখ বেল বাড়ার সম্ভাবনা দেখছে ইউএসডিএ।

উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রধানত চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে শীর্ষ তুলা উৎপাদক দেশগুলো। আর এক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান। উভয় দেশেই উৎপাদন লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দেশ দুটি বৈশ্বিক উৎপাদনে অতিরিক্ত ২০ লাখ বেল করে যোগ করতে সক্ষম হবে। এ প্রবৃদ্ধিতে ভারতও স্বল্প মাত্রায় অবদান রাখবে। বৈশ্বিক উৎপাদনে দেশটি যোগ করবে পাঁচ লাখ বেল তুলা। 

চীন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তুলা উৎপাদক। ২০২৩-২৪ মৌসুমে দেশটির উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদন বৃদ্ধির মাত্রাকে সীমিত করবে। চীনে এ বছর ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় তুলা আবাদ কার্যক্রম বিলম্বিত হয়েছে। অনেক অঞ্চলে ক্ষতির শিকার হয়েছে তুলা গাছ। কমে গেছে আবাদি জমি। সরকারি পরামর্শ মেনে কৃষকরা অন্য ফসল উৎপাদনে মনোযোগ দিচ্ছেন। 

হেবেই টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়াল কোম্পানি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার জুয়ো চাও বলেন, ‘‌এ বছর তুলা উৎপাদন গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ লাখ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০২২ সালে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৬০ লাখ টন। সে হিসাবে উৎপাদন ১৫ শতাংশেরও বেশি কমবে।’

চীন বিশ্বের শীর্ষ টেক্সটাইল উৎপাদনকারী দেশ। তুলা ব্যবহারেও দেশটি নেতৃস্থানীয়। কোনো রকম সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিলে দেশটির তুলা আমদানি বেড়ে যেতে পারে। বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এ উদ্বেগ কিছুটা লাঘব হতে পারে। কারণ অর্থনীতিতে শ্লথগতির কারণে টেক্সটাইল পণ্যের চাহিদা কম।

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে সবচেয়ে বেশি তুলা উৎপাদন হয়। সেখানে অপ্রত্যাশিত ঠাণ্ডা আবহাওয়া তুলা আবাদ ব্যাহত করছে। স্থানীয় সরকার অঞ্চলটির কৃষকদের খাদ্যশস্য আবাদ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ পরামর্শ দেয়া হয়। ফলে তুলা আবাদ অনেকাংশে কমেছে। ইউএসডিএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মৌসুমে বৈশ্বিক উৎপাদনে চীনের অবদান ২৬ শতাংশ থেকে কমে ২৩ শতাংশে নামতে পারে।

এদিকে ভারতে উৎপাদন ২০২২-২৩ মৌসুমের চেয়ে বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আবাদ কমে যাওয়া সত্ত্বেও উৎপাদন নিয়ে আশাবাদী দেশটির খাতসংশ্লিষ্টরা। বিকল্প ফসল উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় দেশটিতে তুলার আবাদ কমে ১ লাখ ২৪ হাজার হেক্টরে নেমেছে। প্রতি হেক্টরে উৎপাদনের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৪৪৮ কেজি, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বৈশ্বিক তুলা উৎপাদনে ভারতের হিস্যা ২২ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে ইউএসডিএ। 

ব্রাজিল, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ায়ও উৎপাদন বাড়বে বলে জানিয়েছে ইউএসডিএ। এর মধ্যে ব্রাজিলের উৎপাদন ১ কোটি ৩২ লাখ ৫০ হাজার বেলে উন্নীত হতে পারে, যা ২০২২-২৩ মৌসুমের চেয়ে কিছুটা বেশি। এ মৌসুমের উৎপাদন হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় রেকর্ড সর্বোচ্চ। 

২০২২-২৩ মৌসুমে পাকিস্তানে তুলা উৎপাদন কমে প্রায় চার দশকের সর্বনিম্নে নেমেছিল। উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩৯ লাখ বেল। ভয়াবহ বন্যার প্রভাবে দেশটিতে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এ মৌসুমে উৎপাদন ঘুরে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা করছেন বিশ্লেষকরা। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৫৯ লাখ বেলে। বৈশ্বিক উৎপাদনে দেশটির হিস্যা দাঁড়াবে ৫ শতাংশে। 

২০২৩-২৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় তুলা উৎপাদন ৫৮ লাখ বেলে উন্নীত হতে পারে। ২০২২-২৩ মৌসুমের তুলনায় উৎপাদন বাড়বে তিন লাখ বেল। ২০২১-২২ মৌসুমে দেশটি রেকর্ড ৫৮ লাখ ৫০ হাজার বেল তুলা উৎপাদন করেছিল। এ মৌসুমে উৎপাদন রেকর্ড সর্বোচ্চের কাছাকাছি পৌঁছবে।