আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম চড়া।
এটি এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যুৎ খাতকে হাই-সালফার জ্বালানি (এইচএসএফও) ব্যবহারে প্ররোচিত করছে।
বিদ্যুতের গ্রীষ্মকালীন ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা মেটাতে বেশি মাত্রার অপরিচ্ছন্ন এ জ্বালানির ব্যবহার স্বাভাবিকের তুলনায় বাড়ছে।
বাজার বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
খবর রয়টার্স।
সাশ্রয়ী কিন্তু অনেক বেশি মাত্রায় দূষণযোগ্য এইচএসএফও ব্যবহারের প্রবণতা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বেশি জটিলতা তৈরি করেছে।
অর্থনীতিতে উৎপাদন ব্যয় নিম্নমুখী রাখার পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্য অর্জন নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব দেশের জন্য।
করোনা মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গতির সঞ্চার হয়েছে।
ফলে গত বছর স্বাভাবিক থাকলেও চলতি বছর এলএনজির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
ফলে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদনে আরো সাশ্রয়ী জ্বালানির ব্যবহারে ঝুঁকছেন।
এ কারণেই শক্তিশালী হচ্ছে রেসিডুয়াল ফুয়েল অয়েলের (নিম্নমানসম্পন্ন জ্বালানি তেল) চাহিদা।
জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভোরটেক্সার এশীয় অঞ্চলের প্রধান বিশ্লেষক সেরেনা হোয়াং বলেন, বর্তমানে স্পট মার্কেটে এইচএসএফওকে ছাড়িয়ে গেছে এলএনজির দাম।
এ কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্লান্টগুলো গ্যাসের পরিবর্তে জ্বালানি তেলকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে।
পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিদ্যুতের চাহিদা অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বলেও জানান তিনি।
হোয়াং আরো বলেন, সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যহীনতায় বিশ্ববাজারে ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে এলএনজির দাম।
ফলে সামনের দিনগুলোতে জ্বালানি তেল আমদানি আরো বাড়তে পারে।
বর্তমানে এশিয়ান স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
এছাড়া বছরের এ সময়ে জ্বালানি পণ্যটির দাম ২০১০ সালের পর সর্বাধিক বেড়েছে।
উত্তর গোলার্ধে শীত মৌসুমে সাধারণত এলএনজির চাহিদা থাকে ঊর্ধ্বমুখী।
ফলে এ সময় পণ্যটির দাম আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান জানায়, বর্তমানে পাকিস্তানে আমদানীকৃত প্রতি টন এলএনজির দাম ২৫০ ডলার।
এটি ১৮০ সেন্টিস্টোক এইচএসএফওর তুলনায় অনেক ব্যয়বহুল।
প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকেও জ্বালানি তেলের তুলনায় বেশি দামে এলএনজি বিক্রি হবে।
এ সময়ের মধ্যেই বিশ্ববাজার এলএনজির পরিবর্তে জ্বালানি তেলে স্থানান্তরিত হবে।
এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এরই মধ্যে এ স্থানান্তর ঘটেছে।
বর্তমানে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ঝিমিয়ে পড়েছে।
পণ্য দুটির বাজারদরে ব্যবধান বাড়তে থাকলে এবং কার্বন নিঃসরণ নীতির শিথিলতা থাকলে জ্বালানি তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুনরায় সচল হয়ে উঠবে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চলতি বছর পাকিস্তানের অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানি গত বছরের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে চলতি অর্থবছর বাংলাদেশ অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানি প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানো কথা ভাবছে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, দেশে বিদ্যুৎ চাহিদা যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।
এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশের অর্থনীতির জন্য তুলনামূলক ভালো বিকল্প এইচএসএফও।
একটি বাণিজ্যিক সূত্রের দেয়া তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব এবং কুয়েতও মৌসুমি জ্বালানি তেল আমদানি শুরু করেছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল হওয়ায় এসব দেশের আমদানি চাঙ্গা হচ্ছে।










