খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছিল বিশ্বের বৃহত্তম সৌরশক্তি যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক লংগি। গত বছর কর্মীদের রঙিন প্রিন্ট নেয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কোম্পানিটি। এবার জানা গেল, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর্মী ছাঁটাই করছে। নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে ক্রমেই মন্দার কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে লংগি। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

২০২৩ সালের শেষের দিকে খরচ কমানোর উদ্যোগ নেয় লংগি। এরই ধারাবাহিকতায় তারা মোট কর্মশক্তির ৩০ শতাংশ কমাতে যাচ্ছে। গত বছরের শেষ দিকে এ প্রতিষ্ঠানে ৮০ হাজার কর্মী ছিলেন। লংগির ওয়েবসাইট বলছে, এপ্রিল নাগাদ ৬০ হাজার ৬০১ জন কর্মী ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঠিক কতজন চাকরি হারাচ্ছেন তা স্পষ্ট নয়। 

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে চায়না ফটোভলটাইক ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিআইএ) এক সভায় কর্মকর্তারা বলেছেন, সৌরশক্তির বাজারে পণ্যের মূল্যপতনের কারণে কোম্পানিগুলো পরিকল্পিত বিনিয়োগ বাতিল ও শ্রমিকদের ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রার আক্রমণের পর থেকে বৈশ্বিক নবায়নযোগ্য শক্তি খাত উল্লেখযোগ্য উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মস্কোর গ্যাস সরবরাহ হ্রাসের ফলে ইউরোপের দেশগুলো অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত হয়। এতে নবায়নযোগ্যে শক্তির দিকে ঝোঁক বাড়ে।

কিন্তু উচ্চতর জ্বালানি খরচ মূল্যস্ফীতির হার বাড়িয়ে দেয়। এরই মধ্যে চাহিদা বৃদ্ধির চাপে নবায়নযোগ্য শক্তির সরবরাহ চেইন যোগ হয় বাড়তি খরচ। এ সুযোগে জ্বালানি তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো উচ্চ মুনাফার আশায় পুনরায় জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্পের দিকে সরে আসে। 

এমন পরিস্থিতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছে নবায়নযোগ্য শক্তিকেন্দ্রিক সংস্থাগুলো। খরচ ও লাভ-লোকসানের ভারসাম্য বজায় রাখতে বিভিন্ন প্রকল্প স্থগিতের উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি কর্মী ছাঁটাই করছে। 

সোলার প্যানেলে ব্যবহৃত ওয়েফারের জন্য লংগির পরিচিতি। মধ্য চীনের জিয়ানভিত্তিক কোম্পানিটি সম্প্রতি দাম কমানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ পরিকল্পনা স্থগিত করে। এ সময় ছোট ছোট পদক্ষেপের মাধ্যমে খরচ কমানোর চেষ্টা করেছিল লংগি। এর মধ্যে ছিল বিনামূল্যে বৈকালিক চা বাতিল ও ব্যবসায়িক ভ্রমণের বাজেট কমানো। অনুমতি না পেলে শুধু কালো ও সাদা রঙে প্রিন্ট করতে হবে এমন নির্দেশও বেশ আলোচনার ঝড় তোলে। লংগির সাংহাই অফিস বিনামূল্যে কফি দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে বলেও জানা গেছে।