ভারত অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিনির্ভর। আগস্টে তিন মাসের সর্বোচ্চ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে দেশটি। মূলত উৎসবের মৌসুমকে কেন্দ্র করে পণ্যটির পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে পরিশোধকরা আমদানি বাড়িয়েছেন। খবর রয়টার্স।
পেট্রোলিয়াম প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যানালাইসিস সেলের (পিপিএসি) ওয়েবসাইটে বলা হয়, আগস্টে ভারত ১ কোটি ৭৩ লাখ ৯০ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৮ ও চলতি বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।
নেটিক্সিস কমোডিটিসের স্ট্র্যাটেজিস্ট জোল হ্যানকক জানান, বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে ভারতে জ্বালানি পণ্যের চাহিদা নতুন উচ্চতা পৌঁছতে পারে। ফলে আগস্টে স্থানীয় বাজারে জ্বালানি পণ্যের ব্যবহার ও প্রক্রিয়াকরণ ১০ মাসের সর্বনিম্নে নেমে এলেও আমদানি বেড়েছে।
জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ এবং শিল্প খাতের বিভিন্ন সূত্রের দেয়া তথ্য বলছে, বিশ্বের সর্ববৃহৎ রিফাইনিং কমপ্লেক্সের পরিচালক ভারতের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। আগস্টে প্রতিষ্ঠানটির জ্বালানি তেল জাহাজীকরণ এর আগের মাসের তুলনায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। গত মাসে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দৈনিক ৩ লাখ ১২ হাজার ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে।
এশিয়ার তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশটিতে মোটর জ্বালানি হিসেবে গ্যাসোলিনের চাহিদা বাড়ছে। পর্যটন ও বাণিজ্য খাতে বিধিনিষেধ শিথিল হতে থাকায় বছর শেষে পণ্যটির চাহিদা নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে। ফলে দেশটির পরিশোধকরা বেশি বেশি গ্যাসোলিন উৎপাদনের লক্ষ্যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে লাইটার গ্রেডকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।
বিনিয়োগ ব্যাংকিং কোম্পানি ইউবিএসের বিশ্লেষক গিয়োভানি স্ট্যানোভো বলেন, যদি মহামারী নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়তে থাকে তাহলে আগামী মাস ও প্রান্তিকে ভারতের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলজাত পণ্য আমদানি ১৭ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টে এসব পণ্য আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টনে। রফতানি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৪৮ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে।
দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন জানায়, জুলাইয়ে ভারতের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি এক বছরের সর্বনিম্নে নেমে যায়। এ সময় দৈনিক ৩৪ লাখ ব্যারেল বা ১ কোটি ৫০ লাখ ২০ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়।










