তিনদিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলিতে পেঁয়াজের দাম ফের বেড়েছে। পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৩ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি কম থাকায় সরবরাহ সংকটে দাম
বেড়েছে।
হিলি স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ইন্দোর ও নাসিক জাতের পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে আগে
বেশি পরিমাণ আমদানি হলেও বর্তমানে কিছুটা কমেছে, যে কারণে পাইকারি বাজারে মসলা পণ্যটির দাম বেড়েছে।
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বন্দরে আমদানীকৃত ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৮ টাকা কেজি দরে, যা তিনদিন আগেও বিক্রি হয় ২৫ টাকায়।
আর নাসিক জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৩ টাকা কেজি দরে, যা তিনদিন আগে বিক্রি হয় ৩১ টাকায়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতি বছর কোরবানির ঈদে দেশের বাজারে পেঁয়াজের বাড়তি চাহিদা থাকে। যে কারণে ভালো দাম পাওয়া যায়। একই কারণে বাড়তি আমদানিও হয়। কিন্তু এবারে বন্দর দিয়ে চাহিদার তুলনায় বেশি পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। ফলে দাম অনেকটাই স্থিতিশীল ছিল, কম ছিল। এছাড়া ঈদের পরও বন্দর দিয়ে ২৫-৩০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। ফলে বাজারে বাড়তি সরবরাহে দাম কমে যায়। এ অবস্থায় লোকসানের শঙ্কায় আমদানি কমিয়ে দিতে থাকেন ব্যবসায়ীরা। এতে করে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে দাম ফের বাড়তে শুরু করেছে।
বন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, দেশে চলমান বিধিনিষেধের কারণে পেঁয়াজের চাহিদা কমে যায়। ফলে দাম কমে ২৫ টাকায় নেমে এসেছিল। এতে লোকসানের শঙ্কায় আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন আমদানিকারকরা। আগে বন্দর দিয়ে ২৫-৩০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হতো, যা কমে ১০-১৫ ট্রাকে নেমেছে। ফলে সরবরাহ সংকটে দাম ফের বাড়তে শুরু করেছে। তবে আমদানি স্বাভাবিক হলে দাম কমে আসবে।
হিলি স্থলবন্দর থেকে পেঁয়াজ কিনে দেশের বিভিন্ন মোকামে সরবরাহ করেন ইয়াকুব আলী। তিনি বলেন, পেঁয়াজের দাম বেশ কিছুদিন ধরে একই রকম ছিল। তবে আবারো বাড়তে শুরু করেছে।
তবে বন্দর দিয়ে আবারো পেঁয়াজ আমদানি স্বাভাবিক হবে বলে মনে করেন হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন। তিনি বলেন, পেঁয়াজের আমদানি ওঠা-নামা করছে। কখনো বাড়ছে। আবার কমছে। গত সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন ২৫-৩০ ট্রাক
আমদানি হয়। বর্তমানে তা কমে ১০-১৫ ট্রাকে
নেমেছে। তবে আমদানি বাড়বে। একই সঙ্গে আমদানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাস্টমসের পরীক্ষণ শুল্কায়ন, আরোপিত শুল্ক আদায় শেষে বন্দরের পেঁয়াজ দ্রুত ছাড় করা হবে।










