কভিড-১৯ বিধিনিষেধ ও এর পরের আবাসন খাতের ধস দারুণভাবে চীনের রত্নপাথরে বাজারে প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া বিয়ের প্রবণতা কমে আসাও হীরার চাহিদা হ্রাস করেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ ভোক্তা বাজারে ২০২৩ সালে হীরার গহনা বিক্রি ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৮০ ডলার হয়েছে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় বছর হীরা খাত মন্থর গতি দেখল, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশ্বের বৃহত্তম হীরা খনির ডি বিয়ার্সের প্রধান নির্বাহী আল কুক বলেন, ‘নতুন বাড়ির মালিকের সংখ্যা হ্রাস, স্বর্ণের গহনার প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি ও বিয়ে কমে যাওয়ায় হীরার বাজারকে প্রভাবিত করেছে।’ ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ ইন্টারন্যাশনাল ডায়মন্ড কনসালট্যান্টস অনুসারে, বৈশ্বিকভাবে প্রাকৃতিক পলিশকৃত হীরার দাম গত বছর ১৮ শতাংশ কমেছে। এ সময় চীনা গ্রাহক কমে যাওয়ার পাশাপাশি গবেষণাগারে তৈরি হীরার প্রতি ঝুঁকেছেন মার্কিন গ্রাহকরা। তবে বিশ্লেষকরা বলেছেন, চীনা ভোক্তারা এখনো প্রাকৃতিক হীরা পছন্দ করেন। দেশটিতে প্রাকৃতিক হীরার চাহিদা প্রাক-মহামারী স্তরের তুলনায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে বলে জানান এ শিল্পের পাইকারি বিক্রেতা নিকুঞ্জ হরেশ ডোবারিয়া। এদিকে ২০২২ সালে চীনে মাত্র ৬৮ লাখ দম্পতি বিয়ে করেছেন, যা ২০১৩ সালের সর্বোচ্চ ১ কোটি ৩৫ লাখ থেকে কম। বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের ক্রমহ্রাসমান জনসংখ্যা এ বাজারকে প্রভাবিত করছে। বেইজিংভিত্তিক ড্যাক্সু কনসালট্যান্সির গবেষণা ব্যবস্থাপক লাই মিং ইয়ি জানান, তরুণ ভোক্তারা পেশাগত ও একাডেমিক কারণে অবিবাহিত থাকা বেছে নিচ্ছেন। আবার বিয়ের জন্য আর্থিক সংস্থানও নেই তাদের। বিয়ে করলেও আর্থিক কারণেই হীরার বাগদানের আংটির প্রতি অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন নারীরা। এছাড়া স্বর্ণকে নিরাপদ সঞ্চয় হিসেবে ভাবছেন অনেকে। চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, স্বর্ণের গহনা বিক্রি ২০২৩ সালে ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেড়ে ৭০৬ দশমিক ৪৮ টন হয়েছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস