রুশ আক্রমণের মুখে ইউক্রেন থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছিল স্প্যানিশ খুচরা পণ্য বিক্রেতা জায়ান্ট জারা। প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর ইউক্রেনের দোকানগুলো পুনরায় খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জারার মালিকানা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিটেক্স এরই মধ্যে ইউক্রেনের স্থানীয় বাড়ি মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। তারা জানিয়েছে, এপ্রিলের শুরুতে ইউক্রেনের দোকানগুলো আবার খুলতে শুরু করবে জারা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটিতে জারার ৮০টির বেশি আউটলেট ছিল। পরে একে একে সব বন্ধ করে দেয়া হয়। এখন নতুন পরিকল্পনা অনুসারে, ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ৫০টির মতো স্টোর চালু হবে।
আরো জানানো হয়, আপাতত ৩৪টি দোকান বন্ধ থাকবে। এগুলো ইউক্রেনের দক্ষিণ ও পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত। ওইসব অঞ্চল সরাসরি যুদ্ধ দ্বারা প্রভাবিত। সেখানে ইউক্রেন সরকারও নিরাপত্তাজনিত কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে।
অবশ্য নতুন এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি ইন্ডিটেক্স। এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া মেলেনি।
স্প্যানিশ জায়ান্টটি একসঙ্গে সব দোকান খুলবে না বলে জানা গেছে। শুরুতে রাজধানীর কিয়েভ শপিং সেন্টারে তিনটি আউটলেটসহ ২০টি দোকান চালু করবে। এরপর ধীরে ধীরে দেশব্যাপী মোট ৫০টি দোকান চালু করবে। তবে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কত সময় লাগবে তা জানা যায়নি।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের পর বড় পশ্চিমা ব্র্যান্ডগুলো ওই অঞ্চল ছাড়তে শুরু করে। চলমান এ যুদ্ধে ইউক্রেনই আক্রান্ত হয়েছে বেশি। রুশ আক্রমণের মুখে দেশটির বেসামরিক অনেক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতি এখন অনেকটা বিদেশনির্ভর। যুদ্ধের শুরুতেই রাশিয়া ও ইউক্রেনে জারার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এইচ অ্যান্ড এম তাদের সব কার্যক্রম স্থগিত করে। এর পরই তাদের অনুসরণ করে জারা। ওই যুদ্ধের পর রাশিয়ার ওপর একাধিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। এ কারণে সরাসরি আক্রান্ত না হয়েও অনেক কোম্পানি দেশটি ছেড়ে আসে।
১৯৭৫ সালে স্পেনে প্রতিষ্ঠিত হয় বহুজাতিক ফাস্ট-ফ্যাশন কোম্পানি জারা। বর্তমানে ১০০টির মতো দেশে এ ব্র্যান্ডের আউটলেট রয়েছে। পোশাক, আনুষঙ্গিক সৌন্দর্য পণ্য ও পারফিউম বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি। সাধারণ ১৮-৩৫ বছর বয়সীদের লক্ষ্য করে পণ্য তৈরি করে জারা। এছাড়া শিশুদের জন্য বিশেষায়িত পণ্য ও গৃহস্থালি সামগ্রীও বিক্রি করে। সারা বিশ্বে এর তিন হাজারের মতো আউটলেট রয়েছে। ২০২০ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর ২০টিরও বেশি নতুন পণ্য বাজারে নিয়ে আসছে।










