যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গ-ভিত্তিক ইস্পাত উৎপাদক ইউএস স্টিলের অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দিকে এগোচ্ছে জাপানের নিপ্পন স্টিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিক ইউনিয়ন, সরবরাহ চেইন ও মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি নিয়ে আলোচনা হয়ে আসছে। এর মধ্যে অধিগ্রহণের বিপরীতে মত দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে নিপ্পন স্টিল এক বিবৃতিতে বলছে, এ অধিগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ পরিপন্থী হবে না। খবর এপি ও নিক্কেই এশিয়া।
গত ডিসেম্বরে অধিগ্রহণ পরিকল্পনা প্রথমবারের মতো সামনে আনে নিপ্পন স্টিল। এর আর্থিক পরিমাণ ১ হাজার ৪১০ কোটি ডলার।
সম্প্রতি এক নির্বাচনী প্রচারণায় ইউএস স্টিলকে মার্কিন মালিকানায় বহাল রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। অধিগ্রহণের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘মার্কিন শ্রমিক চালিত মার্কিন স্টিল কোম্পানিগুলো চালু রাখতে হবে।’
জো বাইডেন আরো বলেন, ‘এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আইকনিক ইস্পাত কোম্পানি ইউএস স্টিল। দেশীয় মালিকানাধীন ও পরিচালনায় এটি থাকা উচিত।’
চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এ সময়ে একীভূতকরণের বিরোধিতা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। যদিও ইউনিয়ন কর্মীদের সমর্থন দেয়ার এ সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ী ও অপরিহার্য মিত্র জাপানকে বিপর্যস্ত করার ঝুঁকি থেকেই যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পুনর্নির্বাচনের পরিকল্পনায় মার্কিন ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের পুনরুদ্ধারকে অন্যতম এজেন্ডা হিসেবে তুলে ধরতে চান জো বাইডেন। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ইউনাইটেড স্টিলওয়ার্কার্সের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যাককলকে ফোন করে সমর্থন পুনর্ব্যক্তের কথা বলেছেন বাইডেন।
বাইডেনের মন্তব্যের পর পরই শুক্রবার এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে জাপানের ইস্পাত উৎপাদক নিপ্পন স্টিল। তারা বলছে, ইউএস স্টিলের অধিগ্রহণের মাধ্যমে মার্কিন সরবরাহ চেইন ও চীনের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক প্রতিরক্ষা আরো শক্তিশালী হবে। আইকনিক কোম্পানি হিসেবে ইউএস স্টিলের সাফল্যের জন্য নিপ্পন স্টিল হতে পারে সঠিক অংশীদার।
জাপানি কোম্পানি এ কথাও পুনর্ব্যক্ত করে যে চুক্তিটিতে উপকৃত হবে ইউএস স্টিল, ইউনিয়ন কর্মী, মার্কিন ইস্পাত শিল্প ও জাতীয় নিরাপত্তা। আরো বলা হয়, ইউএস স্টিলের ওপর নির্ভর করে এমন গ্রাহকদের জন্য গুণমান ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ চালিয়ে যাবে নিপ্পন স্টিল। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র অগ্রাধিকার পাবে ও মার্কিন সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী হবে।
এছাড়া ইউএস স্টিলের নাম অপরিবর্তিত ও পিটসবার্গে সদর দপ্তর রাখার প্রতিশ্রুতি দেয় নিপ্পন স্টিল। এদিকে চুক্তি ঘোষণার পর পরই বিষয়টি বিদেশী বিনিয়োগ-সংক্রান্ত গোপন কমিটির পর্যালোচনার অধীনে থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে হোয়াইট হাউজ।
এদিকে ফেব্রুয়ারিতে জো বাইডেনের প্রশাসনের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে সতর্ক করে দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের সংগঠন ইউএস চেম্বার অব কমার্স। তখন এক ব্লগ পোস্টে বলা হয়, নিপ্পন স্টিলের সঙ্গে চুক্তি অবরুদ্ধ করা জো বাইডেন প্রশাসনের জন্য বোকামি হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষতি হতে পারে। অন্যদিকে বিদেশী বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্বল হতে পারে মার্কিন-জাপান জোট।










