দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজের দাম কয়েক দিন স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু গতকাল থেকে আবারো দাম বাড়তে শুরু করেছে। বিক্রেতারা বলছেন, আগের চেয়ে আমদানির পরিমাণ কমেছে। এতে সরবরাহ সংকটে মসলা পণ্যটির দাম বাড়তে শুরু করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজে দাম বেড়েছে ৩ টাকা। আমদানীকৃত ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ পাইকারিতে ট্রাকসেল ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। আর নাসিক জাতের পেঁয়াজ ৩২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। একদিন আগেও যেখানে বিক্রি হয়েছে ২৮-২৯ টাকা কেজি দরে।

হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা ফিরোজ হোসেন বলেন, পেঁয়াজের বাজার বর্তমানে কিছুটা বাড়তির দিকে রয়েছে। এর কারণ বন্দর দিয়ে আমদানি আগের চেয়ে কম হচ্ছে। ফলে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কম। যে কারণে পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে রয়েছে।

আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারতের বাজারে বর্তমানে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেশি। যে কারণে বাড়তি দামে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করতে হচ্ছে। এছাড়া দেশীয় পেঁয়াজের দাম কিছুদিন কম ছিল। যে কারণে দেশের বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা কিছুটা কমেছিল। ফলে অনেক ব্যবসায়ী বাড়তি দামে পণ্যটি আমদানি করে লোকসানে পড়েন। পরবর্তী সময়ে তারা আমদানি কমিয়ে দেন। ফলে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোজাম হোসেন ও ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, সপ্তাহজুড়ে ১৫-২০ ট্রাক করে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছিল। তবে গতকাল (বৃহস্পতিবার) ভারতের অভ্যন্তরে বন্দরের প্রবেশপথে পণ্যবাহী ট্রাক নষ্ট হওয়ায় তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। এ কারণে সব পেঁয়াজের ট্রাক দেশে প্রবেশ করতে পারেনি। বন্দর দিয়ে মাত্র ছয়টি ট্রাকে ১৭২ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এতে করে দেশের বাজারে পণ্যটির সরবরাহ কমেছে। এছাড়া শুক্রবার বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আমদানি হয় না। ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট বেড়েছে, যার প্রভাবে দাম বাড়তির দিকে। তবে আমদানি বাড়লে দাম আবারো কমে আসবে।

এদিকে পাইকারিতে দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। হিলির কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, আমদানীকৃত পেঁয়াজ আগের দিনের চেয়ে ৪-৫ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়ায় অনেক ক্রেতা ক্ষোভ জানান।