জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জের ধরে বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনের (ইভি) দিকে ঝুঁকছে গোটা বিশ্ব। বাড়ছে বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনের উৎপাদন ও ব্যবহার। ব্লুমবার্গএনইএফের বার্ষিক ইলেকট্রিক ভেহিকল আউটলুক অনুসারে, ইভি ও এর ব্যাটারি অনেক দেশের শিল্পনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বৈদ্যুতিক যানবাহন ও ব্যাটারির বিকাশকে অগ্রাধিকার দেয়—এমন শিল্পনীতির দিকে ঝুঁকছে দেশগুলো। ফলে অটোমেকার, ব্যাটারি নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট শিল্প থেকে বিনিয়োগ আকর্ষণ করার জন্য দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষণটি তুলে ধরে সব ধরনের বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন যেমন বৈদ্যুতিক গাড়ি, বাস ও ট্রাক এর মধ্যেই তেলের উল্লেখযোগ্য খরচ হ্রাসে অবদান রাখছে। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, ২০২৯ সালে সড়ক পরিবহন থেকে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন শীর্ষে পৌঁছানোর যে অনুমান করা হচ্ছে তার বিপরীতে সব ধরনের বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে দৈনিক ১৫ লাখ ব্যারেল করে তেলের ব্যবহার হ্রাস সম্ভব হচ্ছে।

ইলেকট্রিক ভেহিকল আউটলুকের প্রধান লেখক কলিন ম্যাককেরাচার বলেন, ‘‌প্রতিবেদনে উল্লিখিত পরিবর্তনগুলো নতুন সুযোগ তৈরি করলেও অনেক শিল্পসংশ্লিষ্টকে হতাশ করবে। বিএনইএফের ইকোনমিক ট্রানজিশন সিনারিও বা অর্থনীতির পরিবর্তিত দৃশ্যপট অনুসারে, ইভি বিক্রির ক্রমবর্ধমান মূল্য ২০৩০ সালের মধ্যে ৮ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার ও ২০৫০ সাল নাগাদ ৫৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।’

ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে যানবাহনের কার্বন নির্গমন শূন্যে নিয়ে আসা সম্ভব হবে এবং মধ্য শতাব্দী নাগাদ ইভি বিক্রয়ের ক্রমবর্ধমান মূল্য ৮৮ ট্রিলিয়ন ডলার ছুঁয়ে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্র যেমন বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির বাজারকে সমর্থন করার জন্য হালনাগাদ ও আরো শক্তিশালী নীতি প্রয়োগ করেছে। উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোও প্রাথমিকভাবে বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনের অগ্রগতি, চার্জিং অবকাঠামো ও ব্যাটারি সরবরাহ শৃঙ্খলে ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ এবং সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারির মতো প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তবে এখনো এমন কিছু ক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে আরো কাজ করা দরকার।

প্রতিবেদনটি এ পর্যায়ে বিশ্বব্যাপী যানবাহন বাজারে স্বচালিত গাড়ির (এভি) সম্ভাব্যতা তুলে ধরে। এভি মানব চালক ছাড়াই চলতে পারে। নিরাপত্তা বৃদ্ধি, যানজট হ্রাস ও উন্নত শক্তি দক্ষতার মতো অসংখ্য সুবিধা প্রদান করে এভি পরিবহনে বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম। তাছাড়া এটিকে শেয়ার্ড মোবিলিটি পরিষেবাগুলোয়ও স্থাপন করা যেতে পারে, যেমন রাইড-হেলিং বা কার-শেয়ারিং, যেখানে একাধিক ব্যবহারকারী একই গাড়ি ব্যবহার করতে পারে, ফলে এটির ব্যবহার সর্বাধিক হয়। যদিও বৈশ্বিক যানবাহন বাজারে এভির প্রভাব এখনো অনিশ্চিত। কারণ সার্বিক বিষয়গুলো মূলত বিভিন্ন কারণের ওপর নির্ভর করবে। 

তবে প্রতিবেদনটি পরামর্শ দেয় যে এভি এখনো বৈশ্বিক যানবাহন খাতে একটি ওয়াইল্ড কার্ড। ওয়াইল্ড কার্ড অর্থ বাজারে এর প্রভাব ও ফলাফলের বিষয়টি এখনো সম্পূর্ণ অনিশ্চিত এবং তা নির্ধারণ করা আপাতত কঠিন। তাছাড়া এটি বিভিন্ন কারণ দ্বারাও প্রভাবিত। যেমন প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, সরকারি নীতিমালা, অবকাঠামো ও জনসাধারণের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিকশিত ও পরিবর্তিত হতে পারে। বর্তমান অবস্থায় তাই এভিকে বিশ্বব্যাপী যানবাহন বাজারের জন্য ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ হিসেবে ধরা হচ্ছে।