চীন প্রথমবারের মতো বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিগত গাড়ি (প্রাইভেট কার) রফতানিকারক হতে যাচ্ছে। রাশিয়া ও মেক্সিকোর মার্কেটে চাহিদা বৃদ্ধি এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) চীনের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
চায়না অ্যাসোসিয়েশন অব অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্সের (সিএএএম) প্রাথমিক তথ্যানুসারে, বিদায়ী ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৪৪ লাখ ১ হাজার কার রফতানি করেছে চীন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৮ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে এটি জাপানের চেয়ে বেশি।
জাপান চলতি বছরের প্রথম ১১ মাসে ৩৯ লাখ ৯০ হাজার কার রফতানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। জাপানের পুরো বছরের মোট রফতানি প্রায় ৪৩ লাখ দাঁড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। সর্বশেষ জাপান কার রফতানিতে সর্বশেষ শীর্ষস্থান হারিয়েছিল ২০১৬ সালে।
চীনা মার্কেট বিশ্লেষকরা জানান, গাড়ি উৎপাদনের কেন্দ্র হতে চায় চীন। এ লক্ষ্য অর্জনে গাড়ি উৎপাদনের খাতকে ইভিতে স্থানান্তর করছে। এছাড়া চীনা রফতানিকারকদের সুযোগ করে দিয়েছে রাশিয়া। সেখানে জাপানি ও পশ্চিমা গাড়ি প্রস্তুতকারকরা তাদের বিনিয়োগ গুটিয়ে নিয়েছেন। এটা চীনা ব্যবসায়ীদের জন্য একটি আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
চীন চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে রাশিয়ায় ৭ লাখ ৩০ হাজার গাড়ি রফতানি করেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় সাত গুণ বেশি। চেরি অটোমোবাইল এবং গ্রেট ওয়াল মোটর দেশটিতে বেশির ভাগ পেট্রলচালিত গাড়ি রফতানি করেছে। যার মধ্যে রয়েছে মাঝারি এবং বড় স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল (এসইউভি)।
রাশিয়ার পর চীনা কার রফতানিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম মার্কেট হচ্ছে মেক্সিকো। সেখানে রফতানি ৭১ শতাংশ বেড়ে ৩ লাখ ৩০ হাজার ইউনিটে উন্নীত হয়েছে। চীনা কার নির্মাতারা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় মার্কেট সম্প্রসারণের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। চেরি, এসএআইসি মোটর এবং আনহি জিয়ানঘায়ে অটোমোবাইল (জেএসি) মেক্সিকোয় কার রফতানি বাড়িয়ে দিয়েছে।
সিএএএম অনুসারে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে ইভি এবং অন্যান্য নতুন জ্বালানির যানবাহনের রফতানি বার্ষিক হিসাবে ৭৭ শতাংশ বেড়ে ১৪ লাখ ৩০ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে। এর মধ্যে শুধু কার রফতানি হয়েছে ৩৪ শতাংশ।
চীনের বেশির ভাগ যানবাহন রফতানি হয় ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। টেসলা ও বিওয়াইডি এক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে।
বিওয়াইডির এসইউভি অটো-৩ ইউরোপে ৩৮ হাজার ইউরোয় (প্রায় ৪২ হাজার ডলার) বিক্রি হচ্ছে। এটা তুলনামূলক কম দাম। কারণ এ অঞ্চলের গড় ইভির দাম ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার ইউরোর মধ্যে থাকে।
চীনা কার কোম্পানিগুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রফতানি বাড়িয়ে দিয়েছে। সেখানে আগে থেকে জাপানি কার কোম্পানিগুলো মার্কেট তৈরি করে রেখেছে। কিন্তু জাপানে কার কোম্পানিগুলোকে ইভিতে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ পরিবর্তনের ফলে জাপান ক্রমে প্রতিযোগিতা হারাচ্ছে। এছাড়া চীনা কারের থাইল্যান্ডে রফতানি গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা যুক্তরাজ্যের রফতানিকে ছাড়িয়ে গেছে।
মার্কিন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যালিক্সপার্টনারসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোমোয়ুকি সুজুকি বলেন, ‘রফতানিতে চীনা কার প্রস্তুতকারকদের অংশগ্রহণ আরো বাড়বে। কারণ চীনে ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি পেয়ে থাকেন, যা তাদের উৎপাদন এবং সরবরাহকে সহজ করে দেয়। অন্য দেশের কোম্পানিগুলোর তুলনায় প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখে।’










