অস্ট্রেলিয়ায় গত বছর বাড়ির দাম ৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালে কমেছিল ৫ শতাংশ। হ্রাস থেকে এ বৃদ্ধিকে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। যদিও সুদহার বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ক্রমাগত ব্যয় বছরের শেষের দিকে দামের ওপর প্রভাব ফেলেছে। খবর রয়টার্স।

প্রপার্টি খাতের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কোরলজিক প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে দেশজুড়ে বাড়ির দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ১ শতাংশ। যদিও এটি ২০২১ সালে ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির চেয়ে অনেক কম। গত বছরের ডিসেম্বরে বাড়ির দাম বেড়েছিল শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারির পর সবচেয়ে কম বেড়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় শহর সিডনিতে বাড়ির দাম বার্ষিক ১১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছিল। তবে সেটি ২০২২ সালে জানুয়ারিতে বৃদ্ধি পাওয়া সর্বোচ্চ দাম থেকে ২ দশমিক ১ শতাংশ কম। ২০২৩ সালে সিডনিতে বাড়ির গড় দাম ছিল ১১ লাখ ৩০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা ৭ লাখ ৬৯ হাজার ৫৩০ ডলার।

সিডনি ছাড়াও বেশির ভাগ শহরে বাড়ির দাম বেড়েছে। পার্থে ১৫ শতাংশ ও ব্রিসবেনে বেড়েছে ১৩ শতাংশ। মেলবোর্নে তুলনামূলক কম বেড়েছে। সেখানে দাম বৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

কোরলজিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, উচ্চ সুদহার, মূল্যস্ফীতি, ক্রয়ক্ষমতা ও ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচন প্রবণতা গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে মার্কেটকে কিছুটা ধীর করেছে।

কোরলজিকের গবেষণা পরিচালক টিম ললেস এক গবেষণাপত্রে জানান, ধীর অর্থনৈতিক কার্যক্রম ২০২৪ সালের প্রথমার্ধেও অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া (আরবিএ) নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশিত মাত্রায় কমানোর লক্ষ্যে সুদহার এক-চতুর্থাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ করেছে। গত বছরের মে থেকে আরবিএ তাদের সুদহার ৪২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অস্ট্রেলিয়ান পরিবারগুলো ব্যাপক আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে, যা গত ডিসেম্বরে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। যদিও আরবিএ মনে করে অধিকাংশ ঋণগ্রহীতা তাদের ঋণ পরিশোধ করতে পারবে।

সুদহার ২০২৪ সালের আবাসন খাতে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও অর্থনীতিবিদরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, সুদহার নতুন করে বাড়ার সম্ভাবনা নেই।

সুদহার কমানোর বিষয়টি বছরের শেষের দিকে চাহিদা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে বলে জানিয়েছে টিম ললেস। তিনি বলেন, ‘সুদহার কমলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ভোক্তাদের ব্যয় বাড়বে। এর সুবিধা পাবেন আবাসন ব্যবসায়ীরাও।’