ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও ২০৩০ সালের মধ্যে ২ লাখ কোটি ডলারের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে চায় ভারত। দেশটির নীতিনির্ধারকরা সম্প্রতি এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। খবর দ্য হিন্দু।
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ স্বীকার করে অর্থনীতিবিদরা জানান, বর্তমানে ভারতের রফতানির পরিমাণ ৭৭ হাজার কোটি থেকে ৭৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের মধ্যে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ২ লাখ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল সম্প্রতি এক বক্তৃতায় একই আশাবাদের কথা জানিয়েছেন। তিনি কলকাতার নিউ টাউনে পাটসান ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, ‘স্বল্প খাদ্যশস্য উৎপাদন ও অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি রোধ করার জন্য আমরা বিধিনিষেধ প্রয়োগ করেছি। তবে নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ভারতের রফতানি বাড়তে থাকবে বলে আমরা মনে করি।’
এ সময় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, হামাস-ইসরায়েল সংঘাত ও লোহিত সাগর সম্পর্কিত সমস্যাগুলো আন্তর্জাতিক রফতানি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ভারত বর্তমানে ১ হাজার ৫০০ কোটি রুপির পাট রফতানি করে। এ শিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে পীযূষ গয়াল বলেন, ‘পাট খাতের অবদান এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা নতুন উচ্চতা অর্জন করতে পারি।’
তিনি জানান, তিনি টেক্সটাইল ও ভোগ্যপণ্য এবং খাদ্য ও বিপণনের পোর্টফোলিও সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন। এ খাতে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
আগামী ২৬-২৯ ফেব্রুয়ারি নয়া দিল্লিতে আয়োজিত হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেক্সটাইল ইভেন্ট ‘ভারত টেক্স ২০২৪’। সেখানে পণ্য প্রদর্শনের জন্য পাট খাতসংশ্লিষ্টদের প্রতিও আহ্বান জানান ভারতীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী।
এ সময় কেন্দ্রীয় সরকারের অর্জনগুলো তুলে ধরেন পীযূষ গয়াল। একই সঙ্গে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে তাদের সমর্থন করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের জনগণের কাছে আবেদন জানান।
প্রসঙ্গত, ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনের ডিরেক্টর জেনারেল অজয় সাহাই এর আগে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের মার্চে শেষ হওয়া বছরে পণ্য রফতানি বাড়তে পারে ৪৯ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ৫০ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত। এ সময় সেবা রফতানি বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৪০ হাজার কোটি ডলারে। বেশকিছু বিদেশী মার্কেটে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।










