গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের কারণে চলতি বছর লেবানন, মিসর ও জর্ডানের মতো দেশগুলোর অর্থনীতির আকার কমতে পারে ১ হাজার কোটি ডলার। সে অনুযায়ী বছর শেষে দেশ তিনটির অর্থনীতিতে সংকোচনের হার হবে  ২ দশমিক ৩ শতাংশ। জাতিসংঘের সমীক্ষা অনুসারে, এটা ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে। খবর রয়টার্স।

যুদ্ধটি লেগেছে এমন এক সময়ে যখন তিনটি আরব দেশ আর্থিক চাপ, ধীর প্রবৃদ্ধি ও চরম বেকারত্বের সঙ্গে লড়াই করছে। এটি ব্যবসা-বাণিজ্যকে আঘাত করার পাশাপাশি বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে। এরই মধ্যে লেবানন গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে।

ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি) পরিচালিত এ সমীক্ষায় বলা হয়েছে, তিনটি দেশের সংঘাতজনিত প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১ হাজার ৩০ কোটি ডলার। এর মাধ্যমে এ দেশগুলোর জিডিপি ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমতে পারে। এটি আরো ছয় মাস স্থায়ী হলে ক্ষয়ক্ষতি দ্বিগুণ হতে পারে।

জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব ও ইউএনডিপির রিজিওনাল ব্যুরো ফর আরব স্টেটসের পরিচালক আবদুল্লাহ আল দারদারি বলেন, ‘‌এটি একটি বিশাল সংকট। অনেকটা আঞ্চলিক অর্থনীতির ওপর বোমা নিক্ষেপের মতো। কী ঘটতে পারে ও পরিস্থিতি কোথায় যাচ্ছে, কেউ বলতে পারছে না।’

গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত এবং ২৪০ জনকে জিম্মি করার পর ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় ক্রমাগত বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি বাহিনী ভূখণ্ডটি ঘেরাও করে রেখেছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে ১৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। 

আবদুল্লাহ আল দারদারি বলেন, ‘‌গাজায় এত অল্প সময়ের মধ্যে যে পরিমাণ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নজিরবিহীন। লড়াইয়ের এক মাসের মধ্যে ৪৫-৫০ শতাংশ আবাসন ইউনিট নষ্ট বা ধ্বংস হয়েছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে গাজার জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ বাস্তুচ্যুতি কয়েক দশকেরও বেশি পুরনো সিরিয়ার সংঘাতকে ছাড়িয়ে গেছে। এটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকটের জন্ম দিয়েছে।’

সিরিয়া সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়ে সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল দারদারি বলেন, ‘‌এক মাসে গাজা যে ধ্বংসের পর্যায়ে পৌঁছেছে, সিরিয়ায় তা ঘটতে পাঁচ বছর লেগেছে।’

সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে পুনর্গঠনের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আবদুল্লাহ আল দারদারি জানান, তার দল এরই মধ্যে গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের জন্য উন্নয়ন তহবিল ও দাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। যুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করবে না।