নিপীড়নের কারণে দেশ ছেড়ে আসা শরণার্থীদের ইউরোপে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অ্যামাজন। এর মধ্যে পাঁচ হাজারের বেশি ইউক্রেনীয়ও রয়েছে। হিল্টন হোটেলস, অ্যাডেকো, মাইক্রোসফটসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানও কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয়ার কথা জানিয়েছে। খবর বিবিসি।
বিশ্বে বর্তমানে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১১ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। তাদের সহায়তায় এ উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্বের বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো। ইউরোপীয়ান কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্গারিটাস শিনাস জানান, শরণার্থীদের একটা বড় অংশ এখনো কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
তিনি বলেন, ‘মূলত দক্ষতার অভাব, উচ্চশিক্ষা, জীবনযাপনের জন্য উপার্জনের আকাঙ্ক্ষার কারণে অনেকেই বেকার। এছাড়া স্বল্পকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে কাজ করার নৈতিক অধিকারের বিষয়ও রয়েছে।’
মার্গারিটাস বলেন, ‘শরণার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়ার মাধ্যমে এ অঞ্চলের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগ অভূতপূর্ব প্রদর্শন। এর মাধ্যমে ১০ হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় তাদের পরিবারের জন্য জীবিকা অর্জন করতে পারবে।’
রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের কারণে ইউরোপে ইউক্রেনীয় শরণার্থীর সংখ্যা ৫৯ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে ১৩ লাখ রাশিয়া ও বেলারুশে বসবাস করছে। সংঘাত ও নিপীড়নের কারণে কয়েক লাখ ইউক্রেনীয় সিরিয়া, সুদান ও আফগানিস্তানে পালিয়ে গেছে।
শরণার্থীদের সহায়তায় দ্য টেন্ট পার্টনারশিপ সার্বিক বিষয়ে কাজ করছে। সেখান থেকে জানানো হয়, ইউরোপে থাকা ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের অধিকাংশই নারী এবং তারা কর্মসংস্থানের খোঁজ পাচ্ছে না। এর মধ্যে স্থানীয় ভাষা না জানা থেকে শুরু করে সন্তান লালন-পালনের বিষয়ও রয়েছে। এ উদ্যোগের অধীনে অ্যামাজন, হিল্টন, ম্যারিয়টের মতো বড় প্রতিষ্ঠান তিন বছরে ১৩ হাজার ৬৮০ ইউক্রেনীয়র পাশাপাশি অন্যান্য দেশের শরণার্থীদের নিয়োগ দেয়ার অঙ্গীকার করেছে।
অন্যদিকে অ্যাডেকোর মতো স্টাফিং এজেন্সি দেড় লাখ শরণার্থীকে কর্মসংস্থান খুঁজে পেতে সহায়তা করবে। এছাড়া অ্যাসেঞ্চার ও মাইক্রোসফট আরো ৮৬ হাজারকে প্রশিক্ষণ দেবে বলে জানিয়েছে।
২০২৪ সালের শেষে ওয়েলকাম ডোর প্রোগ্রামের মাধ্যমে পাঁচ হাজার শরণার্থীকে নিয়োগ দেয়ার বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অ্যামাজন।










