আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। সরবরাহ সংকট এর প্রধান কারণ। এ অবস্থায় বৈশ্বিক বাজারে খাদ্যপণ্যটির সরবরাহ বাড়ানোর বড় সুযোগ দেখছে ভারত। এজন্য আসন্ন নতুন মৌসুমে ৬০ লাখ টন চিনি রফতানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন দেশটির ব্যবসায়ীরা। খাতসংশ্লিষ্ট সংস্থা ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (ইসমা) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চিনি উৎপাদক দেশ। আর প্রথম হলো ব্রাজিল। কিন্তু দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন কমে যাচ্ছে। আসন্ন মৌসুমে দেশটি থেকে সরবরাহ আরো কমতে পারে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে প্রধান প্রধান ভোক্তা দেশগুলোতে খাদ্যপণ্যটির দাম এখন বেশ চড়া। এ অবস্থার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের হিস্যা আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ভারত। এ লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার নতুন মৌসুমে চিনি রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ইসমা।

ইসমার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২১-২২ মৌসুমে ভারত থেকে ৬০ লাখ টনের মতো চিনি রফতানির প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া চলতি মৌসুমের প্রথম ১১ মাসে (অক্টোবর-আগস্ট) দেশটি থেকে ৬৬ লাখ ৭০ হাজার টন চিনি রফতানি করা হয়েছে। আর চলতি মাস শেষে পুরো মৌসুমে রফতানির পরিমাণ ৭০ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। যেখানে গত মৌসুমে দেশটির রফতানির পরিমাণ ছিল ৫৫ লাখ ৭০ হাজার টন।

বিশ্ববাজারে বর্তমানে চিনির দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রতি পাউন্ড চিনিতে ২০ সেন্টের মতো দাম বেড়েছে। অন্যদিকে কয়েক মৌসুম ধরেই ভারতে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন বাড়ছে। এছাড়া দেশটিতে পর্যাপ্ত মজুদও রয়েছে। এ অবস্থায় বাজারে হিস্যা বাড়ানো ও মজুদ কমানোর জন্য কয়েক মৌসুম ধরে চেষ্টা করছে দেশটি। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে চিনি রফতানিতে ভর্তুকি ও কোটা পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেয়া হয়। আর বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ভারতের জন্য যা সম্পূর্ণ অনুকূল বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

ইসমার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের চিনিকলগুলোর সামনে এক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক মাস বিশেষ করে জানুয়ারি পর্যন্ত উদ্বৃত্ত চিনি রফতানি করতে পারবে চিনিকলগুলো। এর পরের কয়েক মাসও ভারতের জন্য অনেক সম্ভাবনাময়। এপ্রিলের দিকে ব্রাজিলের চিনি বাজারে আসতে শুরু করবে। ফলে এ সময়ের আগ পর্যন্ত বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে বেশকিছু চিনিকল আগামী মৌসুমের রফতানির জন্য ক্রেতাদের সঙ্গে চুক্তিও করে ফেলেছে।

প্রতিকূল আবহাওয়ায় ব্রাজিলের কৃষি খাত এখন বড় সংকটের মুখে। ৯০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরা মোকাবেলা করছে দেশটি। আসন্ন মৌসুমে তা আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে আখের উৎপাদন বেশ ব্যাহত হতে পারে। ফলে আগামী মৌসুমে দেশটির চিনি উৎপাদনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাবে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইন্টারন্যাশনাল সুগার অর্গানাইজেশনসহ (আইএসও) অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ২০২১-২২ মৌসুমে চিনির সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা করছে। এক প্রাক্কলন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের উৎপাদন সংকটের কারণে আসন্ন মৌসুমে আন্তর্জাতিক বাজারে ৪০-৫০ লাখ টনের মতো চিনির ঘাটতি থাকতে পারে। তবে এ মৌসুমে থাইল্যান্ডের উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব চিনি বাজারে আসবে আগামী জানুয়ারির পর। ফলে সার্বিক দিক বিবেচনায় আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত চিনির বাজারে ভারতের বেশ শক্ত আধিপত্য থাকবে।