লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) গতকাল বেড়েছে তামার দাম। পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতা এবং ডলারের দরপতন তামার দাম বাড়াতে সহায়তা করেছে। যদিও অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কায় ব্যবহারিক ধাতুটির চাহিদা মন্দার মুখেই রয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

তথ্য বলছে, এলএমইতে তিন মাসের সরবরাহ চুক্তিতে তামার দাম দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৮ হাজার ৫২ ডলারে। অন্যদিকে সাংহাই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে আগামী সেপ্টেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে তামার দাম দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৬২ হাজার ৯১০ ইউয়ান বা ৯ হাজার ১৭৮ ডলার ৭২ সেন্টে।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে উত্থান-পতনের নির্দেশক হিসেবে প্রায়ই তামার ব্যবহার হয়। গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি ধাতুটির দাম ২০ মাসের সর্বনিম্নে নেমেছিল। এর পর থেকে বাজারদরে ১৬ শতাংশ পুনরুদ্ধার ঘটেছে। যদিও বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তামার দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ কমেছে।

এদিকে ২০৩৫ সালের মধ্যে তামার বৈশ্বিক বাজার সরবরাহে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটস। এ ঘাটতির তীব্রতা ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে শিল্প খাতটির সম্প্রসারণ সক্ষমতার ওপর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি স্থানান্তরজনিত বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ধাতুটির চাহিদা এ সময়ের মধ্যে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টনে উন্নীত করতে পারে, বর্তমানে যা ২ কোটি ৫০ লাখ টনে অবস্থান করছে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটসের ভাইস চেয়ারম্যান ডেনিয়াল ইয়েলগেন সম্প্রতি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এক প্যানেল আলোচনায় বলেন, বর্তমানে আমাদের সামনে দুটি প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। এর একটি হলো বর্তমানে আমরা যে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছি, তার মধ্যে থেকেই ব্যবসা পরিচালনা করা। অন্যটি উচ্চাভিলাষী প্রেক্ষাপট। এক্ষেত্রে আমরা সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা দেখতে পারি।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩৫ সাল নাগাদ বৈশ্বিক বাজারে প্রায় ১৫ লাখ টন তামার ঘাটতি দেখা দিতে পারে। উচ্চাভিলাষী সরবরাহ দৃশ্যপটের ক্ষেত্রে ঘাটতির পরিমাণ এ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে প্রতিবন্ধকতাসংকুল সরবরাহ দৃশ্যপটের ক্ষেত্রে ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ৯৯ লাখ টনে।

প্রতিষ্ঠানটির মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের ননফেরাস মেটালস ইকোনমিকস অ্যান্ড কান্ট্রি রিস্ক ডিরেক্টর জন মাদারসোল বলেন, উভয় দৃশ্যপটেই ঘাটতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। এর আগে ২০১৪ সালে ধাতুটির রেকর্ড সর্বোচ্চ ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। তবে ঘাটতির পরিমাণ ১০ লাখ টনের নিচে ছিল। বর্তমানেও এ ঘাটতি অব্যাহত আছে।

জ্বালানি স্থানান্তর উন্নয়ন এবং তামা উত্তোলন প্রযুক্তির পরিবর্তন ২০৩৫ সাল নাগাদ ঘাটতি কমার পরিমাণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।