বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) উৎপাদনে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে এখনো সম্পূর্ণ প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্র। এ খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগের মাধ্যমে প্রস্তুতি নিচ্ছে ফোর্ড মোটর। সম্প্রতি সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানান ফোর্ড মোটরের নির্বাহী চেয়ারম্যান বিল ফোর্ড জুনিয়র। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।

সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিল ফোর্ড জুনিয়র বলেন, ‘ইভি উৎপাদনের দিক দিয়ে চীন খুব দ্রুত এগিয়েছে। দেশটি এ খাতে এরই মধ্যে বিস্তৃত পরিসরে তাদের বিকাশ লাভ করেছে। বর্তমানে চীনে উৎপাদিত ইভিগুলো বিশ্বব্যাপী রফতানি হচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এমন স্তরে নেই। আমরা মনে করি, যুক্তরাষ্ট্র এটা অবশ্যই অর্জন করতে পারবে। আমাদের এক্ষেত্রে প্রস্তুতি নিতে হবে।’

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, যাত্রীবাহী গাড়ি রফতানিকারক হিসেবে বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসছে চীন। দেশটি সম্ভাব্যভাবে বৈশ্বিক অটো শিল্পকে পুনর্নির্মাণ করতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে অটো ট্রেডিং অংশীদার ও প্রতিযোগীদের আধিপত্যকে নাড়া দেবে দেশটি। তথ্য বলছে, চীনে নির্মিত গাড়ির বিদেশী চালান ২০২০ সাল থেকে তিন গুণ বেড়ে ২০২২ সালে ২৫ লাখ ইউনিট ছাড়িয়েছে। জার্মানির মতো বৃহৎ গাড়ি রফতানিকারকদের জন্য যা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ফোর্ড মোটর ২০২৩ সালের শুরুর দিকে ঘোষণা করেছিল, মিশিগানে একটি ইভি ব্যাটারি কারখানায় ৩৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। এটি চীনা কোম্পানি কনটেম্পোরারি অ্যাম্পেরেক্স টেকনোলজির প্রযুক্তি ও সহায়তায় কাজ করবে। বিষয়টি নিয়ে তখন রাজনৈতিক বিভিন্ন বিতর্কের তৈরি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী পিট বুটিজিয়েগ ব্লুমবার্গ টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ফোর্ডের এ উদ্যোগের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘ইভি ব্যাটারিতে চীনের সহায়তা কমানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে মূল উপকরণগুলোর জন্য পরিশোধক অবকাঠামো গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ।’ 

তিনি বলেন, ‘‌যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, আমাদের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ উপাদানগুলো কীভাবে অর্জন করা যায়।’ বিল ফোর্ড জুনিয়রের মতে, ফোর্ডের প্রকৌশলীদের ইভি প্রযুক্তি আয়ত্ত করার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু এ প্রযুক্তির লাইসেন্স দিচ্ছি। ইঞ্জিনিয়ারদের এ সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’