সিঙ্গাপুর ও চীনা কোম্পানির মধ্যে নতুন ছয়টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে। ২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যকার রেকর্ড বাণিজ্যের পর সিচুয়ানের প্রাদেশিক রাজধানী চেংদুতে বিনিয়োগ সভায় নতুন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উঠবে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকরা। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইম।

২৩তম সিঙ্গাপুর-সিচুয়ান ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিটির (এসএসটিআইসি) সভায় বক্তব্য রাখেন সিঙ্গাপুরের জনশক্তিমন্ত্রী তান সি লেং। সেখানে সিচুয়ান গভর্নর ও এসএসটিআইসির সিচুয়ান উপদেষ্টা হুয়াং কিয়াং উপস্থিত ছিলেন। তান সি লেং বলেছেন, সহযোগিতাগুলো সিচুয়ানে সিঙ্গাপুরের কোম্পানিগুলোর অব্যাহত আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়। মন্ত্রী এ চুক্তিকে ‘সিঙ্গাপুর-সিচুয়ানের অর্থনৈতিক শক্তি ও পুনরুদ্ধার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কেননা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০২২ সালে সর্বকালের সর্বোচ্চে ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার পৌঁছেছে, যা বছরে ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে।

গত বছর সিচুয়ানের বৃহত্তম বিদেশী বিনিয়োগকারী ছিল সিঙ্গাপুর। ২০২২ সালে ৭৩৭টি প্রকল্পে দেশটি প্রায় ৪ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগে করেছিল। এসএসটিআইসির তিনটি লক্ষ্যমাত্রায়ও ‘ভালো অগ্রগতি’ হয়েছে। সিঙ্গাপুর চায়নিজ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিচুয়ান প্রতিনিধি অফিস সিচুয়ান উদ্যোক্তাদের সাধারণ সমিতির সঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়েছে। যাতে প্রতিনিধি দল পাঠানো, অভিন্ন ব্যবসায়িক সুবিধা ভোগ ও যৌথ আয়োজনের মাধ্যমে আরো বেশি পরিমাণে ব্যবসায়িক বিনিময় করা যায়। সম্প্রতি সই হওয়া অন্যান্য সমঝোতা স্মারকে বেশকিছু বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। প্রথম শ্রেণীর যানবাহন পরিদর্শন পরিষেবা, যৌথ বিনিয়োগ খাত, উহু জেলায় এনার্জি সলিউশন পরিষেবা নির্মাণ ও পরিচালনা এবং পশ্চিম চীনে একটি আন্তর্জাতিক স্মার্ট পরিবহন বিনিময় কেন্দ্র নির্মাণ।

তান মনে করেন, সিঙ্গাপুর ও সিচুয়ান কৌশলগত সহযোগিতাকে আরো গভীর ও প্রসারিত করতে পারে। বিশেষ করে একটি প্রধান কৃষি উৎপাদন কেন্দ্র ও ভোক্তা কেন্দ্র হিসেবে সিচুয়ানকে একটি প্রভাবশালী বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত করার মাধ্যমে। সিচুয়ানের অবস্থানগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে পশ্চিম চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্য এশিয়ার মতো অঞ্চলগুলোর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব। টেকসই উন্নয়নে উভয়ই একে অন্যকে সহায়তা করতে পারে।