প্রতিশোধমূলক এ হামলার অংশ হিসেবে সামরিক ঘাঁটি, তেল ও গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রের পাশাপাশি ডেটা সেন্টারগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সিএনবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনার আঁচ এসে পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিজিটাল অবকাঠামোয়। আমিরাতে অবস্থিত অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের (এডব্লিউএস) ডেটা সেন্টারগুলোয় সম্প্রতি ইরানি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে দেশটির ব্যাংকিং, অনলাইন পেমেন্ট এবং বিভিন্ন এন্টারপ্রাইজ ও ভোক্তাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ঘটনার পর পরই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজস্ব সার্ভার অন্যত্র সরিয়ে দ্রুত সেবা সচল করার চেষ্টা চালায়। অধিকাংশ অ্যাপ ও ডিজিটাল সেবা পুনরায় চালু হলেও আধুনিক ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুদ্ধ এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আধুনিক অর্থনীতির বড় একটি অংশজুড়ে আছে ডেটা সেন্টার। এসব কেন্দ্রে কোনো আঘাত বা বিঘ্ন ঘটলে তা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়, বরং পুরো জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল প্লাটফর্ম এখন আর কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি রাষ্ট্রগুলোর একটি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ২০০টিরও বেশি বড় মাপের ডেটা সেন্টার রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সস্তায় জ্বালানি ও পর্যাপ্ত জমির সহজলভ্যতা থাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলে বিপুল বিনিয়োগ করেছে।
এডব্লিউএস নিশ্চিত করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে কোম্পানির দুটি স্থাপনা সরাসরি ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া বাহরাইনে অবস্থিত একটি ডেটা সেন্টারও পার্শ্ববর্তী হামলার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যানুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার কারণেই দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) অ্যামাজনের স্থাপনাগুলোকে নিজেদের হামলার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।










