বাজার গবেষণা সংস্থা ওমডিয়ার সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৫-৫৪ বছর বয়সী ব্যক্তিদের অর্ধেকেরও বেশি এখন টিভি দেখার পাশাপাশি মোবাইলেও ভিডিও ক্লিপ দেখেন।

ওমডিয়ার তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ৪৫-৫৪ বছর বয়সী মার্কিন দর্শকের ৫২ শতাংশই জানিয়েছেন, তারা টিভি দেখার সময় ফোনে ভিডিও দেখেন। ২০২২ সালে এ হার ছিল ৩৯ শতাংশ। বয়স্ক দর্শকের মধ্যেও এ প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে ৫৫-৬৪ বছর বয়সীদের ৩৫ শতাংশ মাল্টিটাস্কিং বা একসঙ্গে দুটি স্ক্রিন ব্যবহার করেন, যা তিন বছর আগেও ছিল ২০ শতাংশ।

লন্ডনে আয়োজিত ‘কানেক্টেড টিভি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬’-এ ওমডিয়ার সিনিয়র রিসার্চ ডিরেক্টর মারিয়া রুয়া আগুয়েতে এ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, মিডিয়া মাল্টিটাস্কিং এখন আর শুধু ৩৪ বছরের কম বয়সীদের অভ্যাস নয়। এটি এখন একটি মৌলিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা দিয়েছে, যেখানে মধ্যবয়স্ক ও প্রবীণ দর্শকরাও ব্যাপকভাবে যুক্ত হচ্ছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, ১৮-২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এ হার ২০২২ সালের ৬১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৬৩ শতাংশ হয়েছে। আর ২৫-৩৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে এটি ৬০ থেকে বেড়ে ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ তরুণদের মধ্যে এ আচরণ স্থিতিশীল থাকলেও ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যেই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে।

রুয়া আগুয়েতে আরো জানান, বর্তমানে মাল্টিটাস্কিং সাধারণ মানুষের মূলধারার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। দর্শকের মনোযোগ এখন বিভিন্ন স্ক্রিনে বিভক্ত হয়ে পড়ছে, যা তাদের মোবাইল প্লাটফর্মের প্রতি আকর্ষণ এবং স্বল্প সময়ের জন্য মনোযোগ দেয়ার মানসিকতাকেই প্রকাশ করে।

পরিবর্তনটি স্ট্রিমিং সেবা, সম্প্রচারকারী ও বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকদের মতে, দর্শক আকৃষ্ট করতে এখন শুধু টিভির পর্দায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। টিভি এখন আর একক স্ক্রিন অভিজ্ঞতার বিষয় নয়। তাই সফল হতে হলে মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে বিপণন এবং বিষয়বস্তু সাজানোর ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।