আগামী বছরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত চিনি রফতানির অনুমতি দেবে না ভারত। অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে আখ উৎপাদন কমতে পারে। ফলে চিনি উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় দেশটির সরকার। স্থানীয় সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতেই রফতানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশটির সরকারসংশ্লিষ্টরা সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমনটি জানিয়েছেন।
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চিনি রফতানিকারক। দেশটিতে প্রতি বছরের অক্টোবরে চিনির বিপণন মৌসুম শুরু হয়। মিলগুলো এ সময় কী পরিমাণ চিনি রফতানি করতে পারবে তা মৌসুম শুরুর আগেই নির্ধারণ করে দেয় সরকার। এবার নতুন মৌসুমের কয়েক মাস হাতে থাকতেই রফতানি বন্ধ রাখার ঘোষণা এল।
এদিকে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটে প্রতি মাসেই আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ছে চিনির দাম। এ নিয়ে পাঁচ মাসের মতো মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটল। বর্তমানে পণ্যটি কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে। ভারতের রফতানি বন্ধ রাখার ঘোষণায় দাম আরো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও এল নিনো ফিরে আসার প্রভাবে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বাড়ছে। কমছে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। আবহাওয়ায় এমন পরিস্থিতির কারণে আখ ও চিনি উৎপাদন ব্যাপক হারে কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে ভারত।
দেশটির ঊর্ধ্বতন এক সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘আবহাওয়া অনেক বড় নেতিবাচক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত সত্ত্বেও গত বছর চিনি উৎপাদন কমে যায়। এ বছর এল নিনোর কারণে শুরুতেই আমরা রফতানির অনুমতি দেয়ার ঝুঁকি নিতে চাচ্ছি না।’
ভারত সাত দশকে যে পরিমাণ খরার সম্মুখীন হয়েছে, তার বেশির ভাগের উৎপত্তিই হয়েছিল এল নিনোর প্রভাবে। একই কারণে এ বছরের শেষ দিকে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে। বড় ধরনের খরার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্য এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘যেকোনো বিপণন মৌসুমে উৎপাদন নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পেতে কয়েক মাস সময় লাগে। এ কারণেই আমরা উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিতভাবে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করব। যতদিন পর্যন্ত রফতানি নিয়ে উদ্বেগ কাটবে না, ততদিন আমরা অপেক্ষা করব।’
চলতি মৌসুমের শুরুতে শিল্প খাতটির সঙ্গে জড়িতরা জানান, এ মৌসুমে ৩ কোটি ৬০ লাখ টন চিনি উৎপাদন হবে। সম্প্রতি সে পরিমাণ কমিয়ে ৩ কোটি ২৮ লাখ টন ধরা হয়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় এ মৌসুমে ৬১ লাখ টন চিনি রফতানির অনুমতি দিয়েছে ভারত সরকার। কোটা পূরণ হয়ে যাওয়ায় দেশটি বর্তমানে চিনি রফতানি করছে না।
এমনকি ২০২৩-২৪ বিপণন মৌসুমের শেষ দিকে রফতানির অনুমতি দেয়া হলেও তা ৪০ লাখ টনের বেশি হবে না। দেশটির সরকার বর্তমানে খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। চলতি বছর বিভিন্ন রাজ্যে ও আগামী বছরের মাঝামাঝিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার এমন প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে ভারত ১ কোটি ১০ লাখ টনেরও বেশি চিনি রফতানি করেছে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ। মুম্বাইভিত্তিক এক ডিলার বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে চিনি। এ পরিস্থিতে খুব দ্রুত বাজারে ভারতীয় চিনির সরবরাহ প্রয়োজন।’ অন্য এক ডিলার বলেন, ‘ভারত থেকে চিনি রফতানিতে দেরি হলে দাম আরো বাড়তে পারে। এতে ব্রাজিলের বিক্রেতারা আরো বেশি দাম হাঁকবে।’










