আগের এলসির বিপরীতে গত রোববার টেন্ডার পাস হওয়া পেঁয়াজগুলো রফতানির অনুমতি দিতে পারে ভারত। এমন হলে আজ বুধবার ভারত থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হতে পারে বলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশী আমদানিকারকদের জানিয়েছেন। এদিকে পেঁয়াজ আমদানির এমন খবরে একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা। অপরদিকে পেঁয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজার তদারকির দাবি সাধারন মানুষের।
আজ বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত বন্দর দিয়ে কোন পেঁয়াজ দেশে প্রবেশ করেনি। তবে বিকেল ৫টার পরে পেঁয়াজ আমদানি হতে পারে বলে ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে। গত সোমবার অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে ভারত পেঁয়াজ রফতানি একেবারে বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ওইদিন বন্দর দিয়ে কোন পেঁয়াজ আমদানি হয়নি।
হিলি স্থলবন্দরের আড়তগুলোতে পেঁয়াজ কিনতে আসা খালেক হোসেন ও আব্দুর রহিম বলেন, গত সোমবার ভারত যেই পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিলে এতে করে পণ্যটির দাম হু-হু করে বাড়তে শুরু করে। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়াতে থাকে, আগের দিন যে পেঁয়াজ আমরা ৩৫ টাকা কেজি দরে কিনে নিয়ে গেছি, ওই দিন তা বেড়ে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা হয়ে যায়, এমনকি পেঁয়াজ কিনলে কোন রিসিভও দিচ্ছিল না তারা। প্রতি ঘন্টায় ঘণ্টায় পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে, যার কারণে আমরা পেঁয়াজ কিনতে এসেও বিপাকের মধ্যে পড়ে গেছি। আজকে আবার পেঁয়াজ কিনতে এসে দেখি দাম কিছুটা কমেছে শুনলাম পেঁয়াজ নাকি আজকে বন্দর দিয়ে ঢুকবে এই খবরেই দাম কমে গেছে। এতে করে পেঁয়াজের এমন দাম ওঠানামার কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। বর্তমানে আড়তগুলোতে ভালো মানের প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫২ থেকে ৬০ টাকা, একটু খারাপ মানেরটা ৪০ টাকা কেজি দরে, খুচরাতে যা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক বাবলুর রহমান বলেন, দেশের বাজারে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি দেখে পর্যাপ্ত পরিমাণে আমদানির জন্য আমরা বেশ পরিমাণে পেঁয়াজের এলসি খুলেছিলাম। যার বিপরীতে পেঁয়াজ লোডিং হয়েছে। আমার নিজের ৩০ থেকে ৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে দেশে প্রবেশের অপেক্ষায়। অন্যান্য আমদানিকারকেরও ট্রাক রয়েছে। এই পেঁয়াজগুলো লোডিং কমপ্লিট হওয়ার পর আসতেই ৬ থেকে ৭ দিন সময় লাগে, ৫/৬দিন ধরে পেঁয়াজগুলো ট্রাকে রয়েছে আবার তিনদিন ধরে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ রয়েছে এতে করে ৯ দিন হয়ে গেলো। এর উপর বর্ষাকালীন সময় হওয়ার কারণে বৃষ্টি হচ্ছে। যার কারণে ত্রিপল বাঁধা অবস্থায় পেঁয়াজগুলো রয়েছে, কোন হাওয়া বাতাস ঢুকছে না। এতে করে পেঁয়াজের অবস্থা খারাপ হতে শুরু করেছে, এমন অবস্থায় পেঁয়াজগুলো না ঢুকলে আমরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবো।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন বলেন, গত সোমবার অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। বর্তমানে সেটির একটি সুখবর ভারতীয় রফতানিকারকরা আমাদের জানিয়েছেন। তা হলো গত রোববারে যেসব পেঁয়াজ রফতানির জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা রয়েছে শুধুমাত্র ওইগুলোর বিপরীতে তারা আজ পেঁয়াজ রফতানি করবে বলে জানিয়েছেন। এখনও তারা কোন অনুমতি পাননি, তবে খুব দ্রুত এসংক্রান্ত অনুমতি পাবেন বলে জানিয়েছেন। একইসাথে যে আড়াইশো ট্রাক আটকা রয়েছে ও ১০ হাজার এলসি দেওয়া রয়েছে তার বিপরীতেও পেঁয়াজগুলো দেওয়ার জন্য আমরা তাদের অনুরোধ জানিয়েছি। এবিষয়ে তারা ভারতীয় কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে অচিরেই রফতানির ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।










