ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের চলমান হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আর্থিক অভিঘাতের কবলে পড়েছে মার্কিন বহুজাতিক পানীয় কোম্পানি জায়ান্ট স্টারবাকস। এ কারণে অঞ্চলটিতে ব্যবসা পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া হিসেবে আউটলেট থেকে অন্তত ২ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর দ্য ন্যাশনাল বিজনেস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বশেষ দুই প্রান্তিকের অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে কর্মী ছাঁটাইয়ের এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্টারবাকস। এতে প্রায় ১৮ শতাংশ কর্মী কাজ হারাচ্ছেন। স্টারবাকসের একজন প্রতিনিধি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আউটলেট থেকে সহকর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত তাদের জন্য দুঃখজনক ও কঠিন। কুয়েতের আলশায়া গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে স্টারবাকসের সঙ্গে কাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন শহরে ১ হাজার ৩০০টির বেশি আউটলেট রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এসব শপে প্রায় ১১ হাজার কর্মী কর্মরত আছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ভোক্তা পরিষেবায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটিয়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ স্টারবাকস। এ কারণে পরিচালন ব্যয় কমাতে ছাঁটাইয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ বৈশ্বিক জায়ান্ট আশঙ্কা করছে, বছরের প্রথম প্রান্তিকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হবে। তাই ২০২৪ সালে বিক্রি বাড়ার ওপর জোর দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী লক্ষ্মণ নরসিমহান বলেন, ‘প্রথমত আমরা মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের ব্যবসার নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ করছি। দ্বিতীয় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের একটি অংশে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে, ফলে আমরা নিজেদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে নজর দিচ্ছি।’

মাস কয়েক আগে স্টারবাকস ওয়ার্কাস ইউনাইটেড ফিলিস্তিনিদের পক্ষে টুইট করে। এ কারণে বয়কটের মুখোমুখি হয় প্রতিষ্ঠানটি। পরে ইউনিয়নের পক্ষে ক্ষমা চাইলেও ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে বিক্রি কমে যায়। 

এ বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যে স্টারবাকসের মার্কেটিং বিভাগের প্রধান ইউসুফ মানসাওয়ালা জানান, স্টারবাকস রাজনৈতিক বিষয়ে জড়াতে চায় না। এ বিষয়ে প্রচলিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে লড়াই করছে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু স্টারবাকসই নয়, পিজা হাট, ম্যাকডোনাল্ডসসহ বেশকিছু বহুজাতিক কোম্পানি ও ব্র্যান্ড বয়কটের কারণে ব্যবসায়িক মন্দার শিকার হয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই কর্মী ছাঁটাই করেছে। এ পরিস্থিতিকে খুবই সংবেদনশীল বলে মনে করেন ইউসুফ মানসাওয়ালা।