ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের আবাসন খাত গত বছর বেশ রমরমা অবস্থায় ছিল। ২০২৩ সালে দুই অংকের (ডাবল ডিজিট) প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এ দুই শহরে আবাসন খাত। রিয়েল এস্টেট এজেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজার কোম্পানি নাইট ফ্রাংক সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স।

নাইট ফ্রাংকের ফ্লাগশিপ ওয়েলথ রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী বিলাসবহুল বাড়ির দাম বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ। এ প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষে ছিল ফিলিপাইনের ম্যানিলা। শহরটিতে বিলাসবহুল সম্পত্তির দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ২৬ শতাংশ। এর পরই আছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও ক্যারিবিয়ান শহর বাহামা। এ দুই শহরে অ্যাপার্টমেন্ট-ভিলার দাম বেড়েছে ১৫ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাড়ির দাম ২ শতাংশ কমেছে। যদিও এ হার শহর দুটির সাম্প্রতিক সময়ে হ্রাস পাওয়া ৮ ও ১৭ শতাংশ থেকে যথেষ্ট কম।

অধিক মূল্যস্ফীতি, উচ্চ সুদহার ও ঋণব্যয়ের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা গত বছর বিলাসবহুল সম্পত্তির বাজারে বড় ধরনের আঘাত হানে। ফলে খাতটিতে অর্থনৈতিক লেনদেন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। তবে সম্প্রতি বাজারটি পুনরুদ্ধারের ফলে বিলাসবহুল বাড়ির মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। 

নাইট ফ্রাংক জানিয়েছে, কভিড-১৯ মহামারীর কারণে বৈশ্বিকভাবে আবাসন খাতে মূল্য পড়ে যায়। তবে সম্প্রতি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় বৈশ্বিক ধনীদের বিনিয়োগ আকর্ষণে সমর্থ হয়েছে খাতসংশ্লিষ্টরা। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাড়ির দামে।

নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধির ফলেও মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক আবাসন ব্যবস্থাপনাবিষয়ক গবেষক ক্যাট এভারেট অ্যালেন। তিনি বলেন, ‘‌কভিডের পর বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে উচ্চ মূল্যের ফলে সুদহার ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছেছে।’

নাইট ফ্রাংকের বৈশ্বিক গবেষণা প্রধান লিয়াম বেইলি বলেন, ‘‌২০২৩ সালে সম্পদের পোর্টফোলিও পুনরুদ্ধার হওয়ায় বৈশ্বিক ধনী ক্রেতারা বিলাসবহুল আবাসন সম্পত্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, যা দাম বৃদ্ধিতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে।’

নাইট ফ্রাংকের গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০২৩ সালে বৈশ্বিক আবাসন খাতের বিনিয়োগ ৪৬ শতাংশ কমে ৬৯ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে নেমেছে। এর পেছনে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে।