জলবায়ু-সহনশীল সমাধানের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত চা বাগান জনগোষ্ঠীর (চা শ্রমিক) নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) সুবিধার উন্নয়নে এখন থেকে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করবে সিটি ব্যাংক পিএলসি ও অক্সফাম ইন বাংলাদেশ। এ উদ্যোগে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও মর্যাদাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় চা বাগান জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। রাজধানীর সিটি ব্যাংক সেন্টারে গতকাল এক অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসরুর আরেফিন এবং অক্সফাম ইন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী কান্ট্রি ডিরেক্টর অনীল পান্ত নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ-সংক্রান্ত চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সিটি ব্যাংকের এমডি ও সিইও মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের সুযোগ মানুষের স্বাস্থ্য এবং মর্যাদার জন্য অপরিহার্য। এ অংশীদারত্ব সিটি ব্যাংকের সিএসআর কার্যক্রমের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার—নারী ও পরিবেশকে একত্র করেছে। এর মাধ্যমে আমরা এমন বাস্তবসম্মত ও জলবায়ু-সহনশীল সমাধান দিতে চাই, যা চা বাগান জনগোষ্ঠীর জীবনে অর্থবহ পরিবর্তন আনবে।’
বাংলাদেশের চা শিল্পে নারী চা শ্রমিকরা মূলত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। অথচ তাদের অনেকে এখনো নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের দীর্ঘস্থায়ী সংকটে রয়েছে, যা ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকির কারণে আরো প্রকট হচ্ছে বলে মনে করেন অক্সফামের কান্ট্রি ডিরেক্টর পক্ষে অনিল পান্ত। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘এ অংশীদারত্ব কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি মর্যাদা, অধিকার ও সহনশীলতা নিশ্চিতের বিশেষ উদ্যোগ। সিটি ব্যাংকের সঙ্গে আমরা এমন জলবায়ু-সহনশীল ও জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন ‘ওয়াশ’ সমাধান বাস্তবায়ন করতে চাই, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনমান উন্নত করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক পরিবর্তন ধরে রাখতে সক্ষম হবে।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এ অংশীদারত্ব সিটি ব্যাংকের সামগ্রিক সিএসআর অগ্রাধিকারের সঙ্গে লিঙ্গ সমতা, জলবায়ু-সহনশীলতা ও জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন উন্নয়নে অক্সফামের অভিজ্ঞতাকে একত্র করেছে। এর মাধ্যমে চা বাগান জনগোষ্ঠীর জন্য স্থানীয়ভাবে পরিচালিত ও টেকসই সমাধান বাস্তবায়নে সহায়তা করা হবে।
অনুষ্ঠানে সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) ও প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান; এএমডি ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কাজী আজিজুর রহমান এবং হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেটিং শাহরিয়ার জামিল খান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অক্সফামের পক্ষে ছিলেন প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অ্যাডভাইজার মাহমুদা সুলতানা ও হেড অব ফাইন্যান্স, রিস্ক অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স হালিমা আক্তার মিতু।










