বিশ্বজুড়ে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জ্বালানি চাহিদা কমানোর নীতি গ্রহণ বাড়ছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের এ নীতি কার্যকর করতে পারলে এ দশকের শেষ নাগাদ বছরে কমপক্ষে ২ লাখ কোটি ডলার খরচ বাঁচবে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।

ডব্লিউইএফ সম্প্রতি জ্বালানি চাহিদা সম্পর্কিত একটি শ্বেতপত্রে জানিয়েছে, জ্বালানি সাশ্রয়ের পদক্ষেপগুলো প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি কোম্পানির অর্থ সাশ্রয় করতে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া বৈশ্বিক কার্বন নির্গমন কমানোর পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেবে। প্রাইসওয়াটারহাউজকুপারস (পিডব্লিউসি) ও ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস কাউন্সিলের সদস্যদের সহযোগিতায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে কপ২৮ জলবায়ু সম্মেলনের কয়েক সপ্তাহ পর প্রকাশিত হয়েছে। কপ২৮ জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তির সক্ষমতা তিন গুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

প্রতিবেদনে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবন নির্মাণ, শিল্প ও পরিবহন খাতে জ্বালানির ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ডব্লিউইএফের প্রতিবেদনে কিছু বাস্তব পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে, যা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানি চাহিদার ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে নিতে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপ ভবন, শিল্প ও পরিবহনের ক্ষেত্রে জ্বালানি চাহিদা কমাতে সাহায্য করবে।

ব্যবহারিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে কারখানার লাইন ডিজাইন অপ্টিমাইজ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার, ভ্যালু চেইনে সহযোগিতা তৈরি, পরিচ্ছন্ন সবুজ জ্বালানি ব্যবহার করতে শিল্পের ক্লাস্টারিং, ভবন পুনর্নির্মাণ ও পরিবহনে বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করা।

ডব্লিউইএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে ২০৩০ সালের মধ্যে সব অর্থনৈতিক খাতে জ্বালানি চাহিদা ৩১ শতাংশ কমবে। এভাবে চাহিদা কমিয়ে আনতে পারলে প্রায় তিন হাজার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা থাকবে না। প্রতিবেদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

অগ্রগতি হওয়া সত্ত্বেও কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা জ্বালানির চাহিদা কমানোর ক্ষেত্রে আইনের অভাবকে চিহ্নিত করেছেন। ডব্লিউইএফ জ্বালানি শক্তি সক্ষমতা অর্জনে অগ্রগতি আনতে আইন, নীতি ও জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পরে সহায়ক নীতি ও বিপুল বিনিয়োগের ওপর জ্বালানি সক্ষমতার পথে বৈশ্বিক অগ্রগতি অনেকটা ত্বরান্বিত হয়েছে। ফলে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির এক প্রতিবেদনে অনুযায়ী, জ্বালানি সক্ষমতার অগ্রগতিতে ২০২২ সালে ২ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা পূর্ববর্তী পাঁচ বছরের গড়ের দ্বিগুণ।

সরবরাহের পাশাপাশি চাহিদা মেটানো, বাণিজ্যিক কার্যক্রমে চাহিদা কমানো ও ভবিষ্যতের জন্য জ্বালানি সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান পিডব্লিউসির গ্লোবাল চেয়ার বব মোরিৎজ।