কানাডায় চলতি বছরের এপ্রিলে ১০৫ কোটি কানাডিয়ান ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে। তবে স্বর্ণ ও জ্বালানি খাতে রফতানি বেড়ে যাওয়ায় ঘাটতির পরিমাণ পূর্বাভাসের তুলনায় কম হয়েছে। সম্প্রতি রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খবর রয়টার্স।
এর আগে রয়টার্সের একটি বিশ্লেষক দল দেশটিতে এপ্রিলে ১৪০ কোটি কানাডিয়ান ডলার বাণিজ্য ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছিল। মার্চে ঘাটতির পরিমাণ আরো বেশি হয়েছিল। ওই মাসে প্রাথমিকভাবে ২২৮ কোটি কানাডিয়ান ডলার বাণিজ্য ঘাটতির হিসাব করা হয়েছিল। পরে তা সংশোধন করে ১৯৯ কোটি কানাডিয়ান ডলারে নামিয়ে আনা হয়।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা (স্ট্যাটসক্যান) বলছে, এপ্রিলে দেশটিতে জ্বালানিপণ্য ও অপরিশোধিত স্বর্ণের রফতানি বেড়েছে। ফলে দেশটির মোট রফতানি বেড়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে আমদানিও বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ। তবে রফতানির পরিমাণ ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমলেও আমদানি কমেছে দশমিক ২ শতাংশ।
স্ট্যাটসক্যানের তথ্য বলছে, কানাডায় পরিশোধিত জ্বালানিপণ্য ও আণবিক জ্বালানির রফতানি কমেছে। কিন্তু সে তুলনায় প্রাকৃতিক গ্যাস, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি খাতে রফতানি বেড়েছে। তাছাড়া দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে অপরিশোধিত স্বর্ণের রফতানিও বেড়ে গেছে। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে স্বর্ণ ও জ্বালানি খাত অবদান রাখছে।
এদিকে বাণিজ্য ঘাটতিসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর কানাডিয়ান ডলারের দশমিক ৪ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়েছে। বর্তমানে ১ মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১ দশমিক ৩৬৯৭ কানাডিয়ান ডলার পাওয়া যাচ্ছে।
কানাডার প্রতিবেশী দেশ যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। দেশটির তিন-চতুর্থাংশ রফতানি পণ্যের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। এপ্রিলে দেশটিতে রফতানির পরিমাণ ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে, যা কানাডার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বাড়াতে সাহায্য করেছে।
তবে সম্প্রতি মার্কিন বাজারে কানাডার পণ্যের চাহিদা কমে যাচ্ছে। এ কারণে আবারো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন কানাডার রফতানিকারকরা। এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট কানাডার প্রধান অর্থনীতিবিদ স্টুয়ার্ট বার্গম্যান বলেছেন, এ পরিস্থিতি রফতানিকারকদের জন্য আদর্শ দৃশ্যপট নয়।
গত সপ্তাহে কানাডার জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রাথমিক পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে স্ট্যাটসক্যান। পূর্বাভাসে সংস্থাটি বলেছে, গত মার্চে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থবিরতার মুখে পড়েছিল। কিন্তু এরপর দেশটিতে তেল-গ্যাস নিষ্কাশন, খনিজ ও পাথর অনুসন্ধান বেড়েছে। ফলে এপ্রিল নাগাদ দেশটির প্রবৃদ্ধি বাড়তে পারে।
কানাডায় সর্বশেষ মূল্যস্ফীতি পরিমাপ করা হয়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ। এ হার ২ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত সপ্তাহে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক অব কানাডা চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুদহার কমিয়েছে। প্রয়োজনে সুদহার আরো কমানোর ঘোষণাও দিয়ে রেখেছে ব্যাংকটি।










