অস্ট্রেলিয়ার উলের বাজার গত সপ্তাহে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বিনিময় হার অনুকূল থাকায় এ সময় মেরিনোসহ কয়েক ধরনের উলের দাম বেড়েছে। খবর ফাইবারটুফ্যাশন ও শিপসেন্ট্রাল ডটকম।
সম্প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মান ১ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং চায়নিজ ইউয়ানের বিপরীতে ১ দশমিক ৫২ শতাংশ কমে যায়। এতে স্থানীয় এবং চীনা ক্রেতারা আগের তুলনায় আরো সাশ্রয়ী মূল্যে উল কিনতে পেরেছেন। ক্রয়ক্ষমতা বাড়ায় নিলামে ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ে। ফলে সূক্ষ্ম মেরিনোসহ কয়েক ধরনের উলের দাম বেড়েছে।
গত সপ্তাহে মেরিনো উলের দাম ২৬ সেন্ট পর্যন্ত বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ান উলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ এডব্লিউইএক্স ইস্টার্ন মার্কেট ইনডিকেটরে (ইএমআই) মেরিনো উলের দাম দ্বিতীয় দিনে ৫ সেন্ট বাড়ে। সপ্তাহ শেষে এর দাম ৪ সেন্ট বেড়ে প্রতি কেজি ১০ ডলার ৯১ সেন্টে বিক্রি হয়। ধরন ও মাইক্রনভেদে অন্যান্য উলের দামও ২৬ সেন্ট পর্যন্ত বেড়েছে। তবে কিছু উলের দাম এ সময় ১৯ সেন্ট পর্যন্ত কমে যায়।
নিলামে ৩০ হাজার বেল উল বিক্রির জন্য তোলা হয়েছিল। অনুকূল বিনিময় মূল্যের কারণে রফতানিকারকরা পর্যাপ্ত উল সংগ্রহ করেছেন। তবে চাহিদা ততটা না বাড়ায় দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়েনি।
অস্ট্রেলিয়ান উল ইনোভেশন (এডব্লিউআই) জানায়, চীনের একটি কোম্পানি অস্ট্রেলিয়ান উলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে থেকে গেছে। কোম্পানিটি উন্নত মানের মেরিনো উলের ২০ শতাংশ এবং নিম্নমানের স্কার্টিংস উলের ১৫ শতাংশ কিনে নিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও মোট উলের ১০ শতাংশেরও বেশি কিনেছে। তবে নিলামের আগে কিছু বিক্রেতা তাদের উল ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। আগামী সপ্তাহে ৩২ হাজার বেল উল নিলামে তোলা হবে বলে জানা গেছে।
অস্ট্রেলিয়ায় ২০২৪-২৫ মৌসুমে ২৮ কোটি ৫০ লাখ কেজি গ্রেসি উল উৎপাদনের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। উৎপাদনের দিক থেকে এটি দেশটির উল্লেখযোগ্য মৌসুম হতে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, চীন অস্ট্রেলিয়ান উলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে। এডব্লিউআইয়ের তথ্যানুসারে, গত মৌসুমে চীন ২৮ কোটি ৪৩ লাখ কেজি অস্ট্রেলিয়ান উল আমদানি করেছে, যা অস্ট্রেলিয়ার মোট উৎপাদনের ৮৬ দশমিক ৪ শতাংশ।










