ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া নিষেধাজ্ঞা, সেটিকে আরো উসকে দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইউরোপে গ্যাসের সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা প্রকট হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা এ অঞ্চলে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াবে। রাশিয়ানির্ভরতা কমাতে তারা ইউরোপে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানি বাড়াবে। খবর রয়টার্স।

ইউক্রেনে হামলার কারণে রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্রদেশগুলো। এরই অংশ হিসেবে ইউরোপের দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে রাশিয়ার জ্বালানি তেল ও গ্যাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার চেষ্টা করেছিল ওয়াশিংটন। তবে ইউরোপের দেশগুলো এতে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত একাই নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার ওপর জ্বালানির জন্য অধিক নির্ভর থাকায় ইউরোপের দেশগুলো বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটেনি। কারণ এ অঞ্চলের গ্যাসের ৪০ শতাংশই এককভাবে সরবরাহ করে রাশিয়া। আর জ্বালানি তেলের ৩০ শতাংশই আসে দেশটি থেকে। যে কারণে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দ্রুত বিকল্প বের করা ইউরোপের জন্য অনেক কঠিন।

রাশিয়ার ওপর জ্বালানি তেল ও গ্যাসের অতিনির্ভরতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও এখন মাথাব্যথার কারণ। এ কারণে ইউরোপের মিত্রদেশগুলোকে নিজের দলে টানতে পারছে না ওয়াশিংটন। যার কারণে এ অঞ্চলে এলএনজি সরবরাহ বাড়িয়ে রাশিয়ার আধিপত্য খর্ব করার কৌশল বেছে নিয়েছে হোয়াইট হাউজ। এরই অংশ হিসেবে রফতানি বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। এজন্য রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ও এজেন্সিগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র চাইলেও সহসাই ইউরোপে এলএনজি রফতানি বাড়াতে সক্ষম হবে না বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এ মুহূর্তে জ্বালানি পণ্যটির বাজার বেশ চড়া। আবার বাড়তি সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন বাড়ানো, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণসহ সবকিছুই সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ। বিপরীতে ইউরোপে পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়া কম খরচে গ্যাস সরবরাহ করতে পারে। যে অবকাঠামো নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের আরো কয়েক বছর সময় প্রয়োজন। যদিও রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমাতে ইউরোপও বেশ তোড়জোড় শুরু করেছে।

ইউরোপীয় কমিশন থেকে সম্প্রতি একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইউরোপের দেশগুলো এ বছর রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দুই-তৃতীয়াংশে নিয়ে আসবে। আর ২০৩০ সালের মধ্যে এটি শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় উদ্যোগকে সবুজ সংকেত হিসেবেই দেখছে কমিশন।