মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) চলতি বছরের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের গড় মূল্যের পূর্বাভাস কমিয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসে দাম নিম্নমুখী থাকার কারণে এ সময় জ্বালানি তেলের মূল্যের পূর্বাভাস কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল ও রয়টার্স।
এর আগে এক পূর্বাভাসে চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৭ ডলার ৭৯ সেন্ট হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল ইউএসইআইএ। তবে সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে তা কমিয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ ডলার ১৫ সেন্ট হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি, যা আগের দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ৩ ডলার ৬৪ সেন্ট কম। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ সংস্থা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামের পূর্বাভাসও কমিয়েছে। জানিয়েছে, চলতি বছর ডব্লিউটিআইয়ের গড় মূল্য ব্যারেলে ৭৯ ডলার ৭০ সেন্ট হবে, যা আগের দেয়া পূর্বাভাস থেকে ৩ ডলার ৩৫ সেন্ট কম।
শর্ট-টার্ম এনার্জি আউটলুকে ইআইএ জানায়, মে মাসে ব্রেন্টের দাম কমে যাওয়ায় চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৪ ডলার হতে পারে, যা আগের দেয়া পূর্বাভাস থেকে ৪ শতাংশ কম।
তবে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে বলে ধারণা করছে ইআইএ।
পূর্বাভাসে ইআইএ আরো জানায়, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের মজুদ আগামী বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গড়ে দৈনিক চার লাখ ব্যারেল হারে বাড়বে। আগামী বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এ পরিমাণ দাঁড়াবে দৈনিক ছয় লাখ ব্যারেলে। আগামী বছর ব্রেন্টের গড় দাম হতে পারে ৮৫ ডলার ৩৮ সেন্ট। অন্যদিকে ডব্লিউটিআইয়ের গড় দাম দাড়াবে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলার ৮৮ সেন্ট। এর আগেও আগামী বছরের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামের একই পূর্বাভাস দিয়েছিল ইআইএ।
সংস্থাটি আরো জানায়, পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেকের বাইরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদন চলতি বছর প্রায় দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা ২০২৯ সাল নাগাদ সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে। গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। তবে এর পরের বছর থেকেই চাহিদা নিম্নমুখী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে সংস্থাটি আরো জানায়, ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহক্ষমতা হবে দৈনিক ১১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল, যা প্রত্যাশিত চাহিদার তুলনায় দৈনিক ৮০ লাখ ব্যারেল বেশি।
অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদার পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখেছে ওপেক। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি বছর জ্বালানি তেলের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রাখবে। আর আগামী বছর কমতির দিকে থাকতে পারে।
প্রতিবেদনে ওপেক জানায়, চলতি বছর জ্বালানি তেলের মোট চাহিদা দৈনিক ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছবে। আগামী বছর তা কমে দৈনিক ১৮ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল হবে। গত মাসেও ওপেক বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদার একই পূর্বাভাস দিয়েছিল।










