ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করায় সাড়ে তিন মাস পর আবারো দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ৩টায় ভারত থেকে ১৯ টন পেঁয়াজ বোঝাই একটি ট্রাক দেশে প্রবেশ করে। স্থানীয় আমদানিকারক বাবু এন্টারপ্রাইজ এ পেঁয়াজ আমদানি করে। বিকাল ৫টা পর্যন্ত বন্দর দিয়ে আর কোনো পেঁয়াজ দেশে প্রবেশ করেনি।

এদিকে দীর্ঘদিন বন্ধের পর বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ায় কর্মরত শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে।

হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী শাহিনুর রেজা বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। পেঁয়াজ রফতানিতে ন্যূনতম মূল্য নির্ধারিত না থাকলেও বর্তমানে ভারতে পেঁয়াজের যে বাজার চলছে তাতে প্রতি টন পেঁয়াজ প্রকারভেদে ২৫০-২৭৫ ডলার মূল্যে আমদানি করতে হচ্ছে। সে হিসেবে বর্তমানে যে দামে বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ভারত থেকে আনা পেঁয়াজও একই দামে বিক্রি করতে হবে।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সবুজ হোসেন ও সব্বির হোসেন বলেন, আমরা হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানীকৃত পেঁয়াজ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করি। কিন্তু ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে বেশকিছু দিন ধরে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল। তাই আমাদের মোকামগুলোয় বিপুল পরিমাণ টাকা আটকা পড়ে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির খবরে দেশের বিভিন্ন স্থানের ক্রেতারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। পেঁয়াজ কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ভারত থেকে আবার পেঁয়াজ আসার ফলে বিভিন্ন মোকামে আটকে থাকা টাকা উঠে আসবে।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে সাড়ে তিন মাস ধরে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল। গত ২৮ ডিসেম্বর ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। তাদের এ সিদ্ধান্তের পর বন্দরের আমদানিকারকরা পেঁয়াজের এলসি খুলেছেন। সেই এলসির বিপরীতে গতকাল বিকালে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির কারণে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দামের ওপর প্রভাব পড়বে।

হিলি স্থলবন্দর পরিচালনাকারী পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধের পর গতকাল বন্দর দিয়ে পুনরায় দুই দেশের মাঝে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরুর ফলে বন্দরের আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, শ্রমিকদের মাঝে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে বন্দরের নিত্যদিনের আয়ও বেড়েছে। পেঁয়াজ কাঁচামাল হওয়ায় বন্দরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে খালাস করে আমদানিকারকদের সরবরাহ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত। এতে দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের অভ্যন্তরে আটকা পড়ে ২৫০টি পেঁয়াজবাহী ট্রাক। আরো আটকা পড়ে আমদানির জন্য খোলা ১০ হাজার টনের মতো এলসি করা পেঁয়াজ। এর পাঁচদিন পর ১৯ সেপ্টেম্বর অনুমতি সাপেক্ষে আগের টেন্ডারকৃত ১১টি ট্রাকে ২৪৬ টন পেঁয়াজ রফতানি করে, যার অধিকাংশ পেঁয়াজ পচা-নষ্ট হওয়ায় পুঁজি হারিয়ে ব্যাপকভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন বন্দরের আমদানিকারকরা।