চীনে আবাসন খাতে মন্দা এবং মহামারীর কারণে সৃষ্ট বিধিনিষেধ চাহিদা পুনরুদ্ধারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এশিয়া অঞ্চলে চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে আকরিক লোহার বাজার নিম্নমুখী থাকবে। কারণ চলমান পরিস্থিতির কারণে শীত মৌসুমে ইস্পাত উৎপাদন তলানিতে নামতে পারে। ফলে স্বভাবতই ধাতুটির প্রধান কাঁচামালটির ব্যবহারও কমবে। খবর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটস।
গত প্রান্তিকে চীনের আবাসন খাত ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। ক্রেতা ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণখেলাপি হয়ে পড়ছে, যা দেশটির বেসরকারি আবাসন নির্মাণের গতিকে শ্লথ করে দিচ্ছে।
অন্যদিকে চীনে করোনা সংক্রমণ আবারো তীব্র আকার ধারণ করেছে। সংক্রমণ রোধে দেশটি কঠোর লকডাউন ও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এতে আকরিক লোহার বাজারে অস্বস্তি আরো তীব্র হচ্ছে।
গত প্রান্তিকে ৬২ শতাংশ ফি আকরিক লোহার মূল্যসূচক ২৫ দশমিক ১৭ শতাংশ করে কমেছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৯৫ ডলার ৯৫ সেন্টে। এ বছরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় মূল্যসূচক যথাক্রমে ২৪ দশমিক ৮৭ ও ৬৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমেছে।
এদিকে চলতি বছর আকরিক লোহার বৈশ্বিক উত্তোলন কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মূলত চীন, রাশিয়া ও ইউক্রেনে উত্তোলনে নিম্নমুখিতাকে এজন্য দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। কভিড-১৯-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ উত্তোলনে ব্যাপক বাধার সৃষ্টি করেছে। সর্বোপরি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দা তো রয়েছেই। শীর্ষস্থানীয় তথ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ডাটার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে।
ইস্পাত উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল আকরিক লোহা। কিন্তু ধাতুটির উত্তোলন কমতে শুরু করায় ঝুঁকি বাড়ছে ইস্পাত খাতে। অর্থনৈতিক মন্দার পাশাপাশি আকরিক লোহা উত্তোলনে নিম্নমুখিতা অব্যাহত থাকলে ইস্পাতের সরবরাহ সংকট প্রকট আকার ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর আকরিক লোহার বৈশ্বিক উত্তোলন গত বছরের তুলনায় ২ শতাংশ কমবে। উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৪০ কোটি টনে। এর মধ্যে শীর্ষ দেশ চীন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের উত্তোলন নামবে ৩৮ কোটি ২৮ লাখ টনে। গত বছর এসব দেশ উত্তোলন করেছিল ৪৫ কোটি ৮৯ লাখ টন। সে হিসাবে উত্তোলন ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ কমবে।
এদিকে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ভারত ও কানাডার উত্তোলন ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১৬৭ কোটি ৫০ লাখ টনে উন্নীত হবে। বৈশ্বিক উত্তোলন কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে এসব দেশ কিছুটা ভারসাম্য এনেছে।










