যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ কম থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। অন্যদিকে ক্রুড বা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে শক্ত অবস্থানে রয়েছে চীন। তবে চাহিদা কমার যে পূর্বাভাস, সেটি বিনিয়োগকারীদের দোদুল্যমান অবস্থায় রেখেছে। খবর রয়টার্স।

সেপ্টেম্বরের জন্য ব্রেন্ট ফিউচারের মূল্য ১৮ সেন্ট বা দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ ডলার ৬৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটে (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২৮ সেন্ট বা দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৫ ডলার ৬৩ সেন্টে পৌঁছেছে। আগস্টের ডব্লিউটিআই চুক্তির মেয়াদ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরে ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৬ সেন্ট বেড়ে ৭৫ ডলার ৬৫ সেন্টে পৌঁছেছে।

শক্তিশালী অর্থনৈতিক তথ্য, কম কর্মসংস্থান হার ও ফেডের ইতিহাসে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক হারে প্রচারাভিযান শুরু হওয়ার পর এক বছর ধরে চলমান মূল্যস্ফীতি চলতি বছর মার্কিন তেলের চাহিদা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ এর বেঞ্চমার্ক সুদহার আরো ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশে উন্নীত করবে বলে জানা গেছে।

গ্যালেনা, ইলিয়নসের অ্যাসোসিয়েটস ও রিটারবুশের প্রেসিডেন্ট জন রিটারবুশ বলেন, ‘মার্কিন অর্থনীতি ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী প্রমাণিত করছে। তবে ফেড যদি আগামী সপ্তাহে ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ায়, তাহলে বর্তমানে যে শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে, তা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়বে।’

আগের সেশনে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল মজুদ বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের তুলনায় কম ছিল। যে কারণে দাম অনেকটা কমে আসে। নিউইয়র্কভিত্তিক মিজুহোর ভবিষ্যৎ জ্বালানি বিভাগের ডিরেক্টর বব ইয়াওগার বলেন, ‘বাজারসংশ্লিষ্টরা যে হারে দাম কমার আশা করেছিলেন, তেমনটা হয়নি। কেননা এ সময় গ্যাসোলিনের যে চাহিদা থাকে, চলতি বছর তা অনেকটাই কম।’

কভিড-১৯ মহামারীসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শেষে চীনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়েছে। গত জুনে জ্বালানি তেল আমদানি আগের বছরের তুলনায় অর্ধেক বেড়েছে। কিন্তু একই সময়ে মজুদের মাত্রা সর্বকালের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, চীন খুব সম্ভবত অর্থ ছাড়ে রুশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছে। পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ও আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা বলছে, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে চীনের চাহিদা আরো বাড়বে এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়া থেকে চীনের অপরিশোধিত তেলের আমদানি জুনে সর্বকালের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে চলতি বছরের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা পূর্বাভাস বাড়িয়েছে রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক। অর্থনীতির গতি শ্লথ হয়ে পড়ার আশঙ্কা সত্ত্বেও আগামী বছরের চাহিদা নিয়ে আশাবাদী জোটটি। কারণ চীন ও ভারত অব্যাহত জ্বালানির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। মাসভিত্তিক এক প্রতিবেদনে ওপেক জানায়, চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা দৈনিক ২৪ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল করে বাড়তে পারে। আগামী বছর চাহিদা প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে দৈনিক ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাও আগামী বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে সংস্থাটির পূর্বাভাসের তুলনায় ওপেক প্লাসের পূর্বাভাস দ্বিগুণ বেশি। জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ার পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে ওপেক ও এর মিত্র জোট ওপেক প্লাসের উত্তোলন কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তও বাজারকে চাঙ্গা করে তুলছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে জোটটি গত জুন থেকে আরো ব্যাপক মাত্রায় উত্তোলন কমার পদক্ষেপ হাতে নেয়।