সরকারি ক্রয়ে অতি ক্ষুদ্র, নারী ও নতুন উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (বিআইএম) সম্মেলন কক্ষে এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এ দাবি জানান। এক্ষেত্রে এসএমই ফাউন্ডেশনের আওতায় একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে নিবন্ধিত উদ্যোক্তাদের সরকারি ক্রয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
বক্তারা জানান, ইন্দোনেশিয়ায় এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি ক্রয়ে শতকরা ৪০ ভাগ কোটা নির্ধারিত আছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ২৩ শতাংশ, ভারতে ২৫ শতাংশ, ব্রাজিলে ২০ শতাংশ, কেনিয়ায় ৩০ শতাংশ ও যুক্তরাজ্যে ৩৩ শতাংশ কোটা সুবিধা রয়েছে। এসব দেশ এরই মধ্যে প্রমাণ করেছে, সরকারি ক্রয়ে এমএসএমই উদ্যোক্তাদের জোরালো অংশগ্রহণ অর্থনীতিকে গতিশীল করে। বাংলাদেশও সেই সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে।
বাংলাদেশে সরকারি ক্রয় মোট জাতীয় বাজেটের ৪৫ শতাংশ ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৮০ শতাংশ। এ বিশাল বাজারে এমএসএমই, নারী-মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ও নতুন উদ্যোক্তাদের কার্যকর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে বলে জানান সেমিনারে উপস্থিত অতিথিরা। বৈচিত্র্যময় শিল্পায়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা-বান্ধব ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে উঠবে বলেও অভিমত তাদের।
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন মো. মুসফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ। প্যানেল আলোচক ছিলেন ইউএনডিপি’র রিজিওনাল হেড মমতা কোহলি, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি হেড নাশিবা সেলিম।
এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।
সেমিনারে মো. মুসফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বব্যাপী গবেষণা বলছে, সরকারি ক্রয়ে ১ শতাংশ অতিরিক্ত এসএমই অংশগ্রহণ হলে প্রায় ৩০-৫০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান হবে। আর নারী-মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়লে সমতাভিত্তিক অর্থনীতি ও পরিবারিক আয়ের প্রবৃদ্ধি হবে। এ কারণে এসএমই উদ্যোক্তাদের তথ্য সম্বলিত একটি রেজিস্ট্রেশন প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। যা সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি সোর্স হিসেবে বিবেচিত হবে। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি’র আর্থিক সহযোগিতায় এসএমই ফাউন্ডেশন এ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারে বলেও জানান এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন।











