তবে রাজস্ব আহরণের ‘উচ্চাভিলাষী’ লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এ সংগঠন। এমসিসিআই গতকাল এক বিবৃতিতে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় নিজেদের এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে।

সংগঠনটি বলছে, প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশের সমান। এটি চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে সরকার ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করেছে। এমসিসিআই মনে করে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সরকারি লক্ষ্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।

জনসাধারণকে স্বস্তি দেয়া এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা জোরদারে সরকারের নির্ধারিত ১০টি অগ্রাধিকার খাতকে যথাযথ বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। তবে আগামী অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এমসিসিআই। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান রাজস্ব সংগ্রহের প্রবণতা বিবেচনায় এ লক্ষ্যমাত্রাকে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী বলে মনে করছে সংগঠনটি।

তাদের হিসাবে বিদায়ী অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত এনবিআর ৩ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করতে পেরেছে, যা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬৫ শতাংশ।

এমসিসিআই সতর্ক করে বলেছে, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রচেষ্টা করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ ও হয়রানির কারণ হতে পারে।

বিদ্যমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানোর পরিবর্তে কর প্রশাসনের স্বয়ংক্রিয়করণ, প্রকৃত করজাল সম্প্রসারণ এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় আরো দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপের আহ্বান জানিয়েছে এমসিসিআই।

অন্যদিকে বাজেটে প্রস্তাবিত কয়েকটি কর সংস্কার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এমসিসিআই। এর মধ্যে উৎসে কর (টিডিএস) সংক্রান্ত বিধানে পরিবর্তন, আপিলের ক্ষেত্রে জমার পরিমাণ কমানো, বৈধ ব্যবসায়িক ব্যয়কে অধিক স্বীকৃতি দেয়া এবং কর প্রশাসন ডিজিটাল করার উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া বাংলা বিজ নামে একক ডিজিটাল সেবা প্লাটফর্ম, সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি এবং ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের মতো উদ্যোগকেও স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি।