চিনির উৎপাদন বাড়াতে চায় ব্রাজিল। এ লক্ষ্যে সেন্টার-সাউথ অঞ্চলে ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমের (এপ্রিল-মার্চ) জন্য ৩ কোটি ৪২ লাখ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে, যা চলতি বিপণন মৌসুমের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা বেশি। ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমের জন্য দেশটির এ অঞ্চলের চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৩১ লাখ টন। চিনির বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কভরিগ অ্যানালিটিক্স এমনটা জানায়। খবর রয়টার্স।

সম্প্রতি চিনিসংক্রান্ত তথ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠান সুগারঅনলাইন কর্তৃক আয়োজিত এক সম্মেলনে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়। কভরিগ জানায়, ব্রাজিরের সেন্টার-সাউথ অঞ্চলে চলতি বছরে আখ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৩ কোটি ২০ লাখ টন। আগামী বছরের জন্য এ লক্ষ্যমাত্রার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ কোটি ২০ লাখ টন। বর্তমানে বিরাজ করা তীব্র খরার পর যদি আবহাওয়া স্বাভাবিক হয় তবে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে জানায় তারা।

চলতি বিপণন মৌসুমের জন্য ব্রাজিরের সেন্টার-সাউথ অঞ্চলে আখের উৎপাদন ১২ শতাংশের বেশি হ্রাস পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম উৎপাদনের হার। অঞ্চলটিতে তীব্র খরা এবং তুষারপাতের ফলে উৎপাদন সম্ভাবনা হ্রাস পায়।

চিনি বিশেষজ্ঞ ক্লাউডিও কভরিগ বলেন, অতিরিক্ত শুষ্কতার জন্য নতুন মৌসুমের আখের উৎপাদন স্বাভাবিকের চেয়ে কমে আসবে। ফলে উৎপাদন পুনরুদ্ধারের জন্য যে বৃহৎ লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেয়া হয়েছে তা ব্যাহত হবে।

তিনি আশা করছেন আগামী মৌসুমে আখভিত্তিক ইথানল উৎপাদনের মাত্রা কিছুটা বাড়বে। এ সময়ে ইথানল উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে ২ হাজার ৪৩২ কোটি লিটারে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে ব্রাজিলের চিনি রফতানির পরিমাণ বেড়ে ২ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে।

চলতি ২০২১-২২ বিপণন মৌসুম শেষে দেশটির চিনি রফতানির পরিমাণ ২ কোটি ৩৯ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়। রফতানীকৃত এসব চিনির মধ্যে অপরিশোধিত এবং পরিশোধিত উভয় প্রকারের চিনি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানান বিশ্লেষকরা। বর্তমানে মোট চিনি রফতানিকারকের তালিকায় শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে ব্রাজিল। এরমধ্যে অপরিশোধিত চিনি রফতানিতে তালিকার শীর্ষে থাকলেও পরিশোধিত চিনি রফতানিকারকের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে দেশটি। আন্তর্জাতিক চিনি সংস্থার প্রকাশিত তথ্যে এমনটা দেখা যায়।