বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে পণ্য আমদানি বেড়েছে। গেল ২০২০-২১ অর্থবছরে বন্দরটি দিয়ে ২৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬০৬ টন পণ্য আমদানি হয়েছে। যেখানে এর আগের অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ ছিল ২০ লাখ ৩৮ হাজার ৬৪ টন। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে আমদানি বেড়েছে ৭ লাখ টনেরও বেশি।    বেনাপোল কাস্টম অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

দেশে স্থলপথে আমদানির বড় অংশই আসে বেনাপোল দিয়ে। কয়েক বছর ধরেই বন্দরটি দিয়ে আমদানির পরিমাণ বাড়ছে।  বেনাপোল কাস্টম হাউজের তথ্য বলছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বন্দরটি দিয়ে পণ্য আমদানির পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ৭১ হাজার ২৪ টন। পরে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ১৩ লাখ ৫৪ হাজার ৯৪২ টন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৫, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৫ লাখ ১৯ হাজার ২২০, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৯ লাখ ৮৮ হাজার ৩৯৭ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমদানি করা হয় ২০ লাখ ১১ হাজার ৬ টন পণ্য।

তবে বেনাপোল দিয়ে পণ্য আমদানির পরিমাণ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় সম্ভব হচ্ছে না।  শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি কমে যাওয়া এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। সর্বশেষ ২০২০-২১ বছরটিতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ২৪৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। বিপরীতে আদায় হয়েছে ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমসের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছিল ৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, দিন দিন আমদানি পণ্যের ওপর অযৌক্তিক হারে শুল্ককর বাড়ছে। শুল্কহার স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখা হলে বৈধ পথে আমদানি বাড়বে। এতে রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, সব বন্দরে আমদানি পণ্যের ওপর রাজস্ব পরিশোধের নিয়ম এক হতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরে যে পণ্যের ওপর রাজস্ব ৪ ডলার, বেনাপোল বন্দরে ওই একই পণ্যের ওপর সাড়ে ৪ ডলার শুল্ক আদায় করা হচ্ছে। বন্দরের ধারণক্ষমতা ৩৮ হাজার টন। কিন্তু এখানে সবসময় পণ্য থাকে কমপক্ষে দেড় লাখ টন। জায়গার অভাবে পণ্য খালাস করতে না পেরে ভারতীয় ট্রাক বন্দরে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকছে। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে মূল্যবান পণ্যসামগ্রী পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বৈধ সুবিধা পেলে এ বন্দর থেকে সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান মনে করেন, বেনাপোল বৃহৎ বন্দর হলেও এর সুফল পাচ্ছেন না  ব্যবসায়ীরা। তিনি বলেন, বাণিজ্য প্রসার করতে হলে বৈধ সুবিধা ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিকল্প নেই। বাণিজ্য প্রসার করতে হলে বেনাপোলে সব ধরনের হয়রানিমুক্ত করা প্রয়োজন।     

এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টমের কমিশনার মো. আজিজুর রহমান বলেন, গেল অর্থবছরের শেষের দিকে কম শুল্কযুক্ত ও শুল্কমুক্ত পণ্য বেশি আমদানি হয়েছে। যার মধ্যে চাল অন্যতম। এতে আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। তবে রাজস্ব আদায় হয়নি। তারপরও আমরা ৫৭ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় করতে পেরেছি। করোনার দুর্যোগ কেটে গেলে আশা করছি বাণিজ্য স্বাভাবিক হয়ে আসবে।