৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ওপেক প্লাসের পরবর্তী বৈঠক। জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোটের গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠকে সামনে রেখে বেড়েছে দাম। বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতি এবং চীনের করোনা নিয়ন্ত্রণ নীতিমালাও এতে প্রভাব ফেলেছে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ১ দশমিক ২৩ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অপরিশোধিত ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। এদিকে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ২৫ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৭ দশমিক ৮৬ ডলারে দাঁড়িয়েছ।

আগের সেশনে উভয় বেঞ্চমার্ক জ্বালানি তেলের দামই ৩ শতাংশ বা দুই সপ্তাহের নিচে নেমে এসেছিল। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রেন্টের দাম ৭ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৫ শতাংশ কমেছিল।

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন বিশ্বের জ্বালানি রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক। রাশিয়াসহ আরো কয়েকটি মিত্রদেশের জোটটি ওপেক প্লাস হিসেবে পরিচিত। উত্তোলন সীমা ও দাম নির্ধারণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ৫ সেপ্টেম্বর বৈঠকে বসতে যাচ্ছে জোটটি।

আইএনজির কমোডিটি রিসার্চের প্রধান ওয়ারেন প্যাটারসন বলেন, জ্বালানি উত্তোলন লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে বলেই মনে করি। প্রত্যাশিত বাজার চাহিদার চেয়ে তাদের উত্তোলন কম এবং ইরানের সরবরাহ ইস্যুতে তাদের উত্তোলন নিয়ে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে কিনা এ বিষয়ে হয়তো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

চলতি সপ্তাহে বাজার চাহিদা প্রাক্কলন কমিয়েছে ওপেক প্লাস। ২০২২ সালে চাহিদার চেয়ে বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ দিনপ্রতি চার লাখ ব্যারেল কম। ২০২৩ সালের জন্য বাজারে দৈনিক তিন লাখ ব্যারেল ঘাটতির পূর্বাভাস তাদের। রাশিয়ার জ্বালানি তেল রফতানিতে সম্ভাব্য মূল্যনির্ধারণ করে দেয়ার কথাও ভাবছেন ওপেক প্লাসের নীতিনির্ধারকরা।

রাশিয়ার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করে দিতে জি৭-এর অর্থমন্ত্রীরা চাপ দিতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের জবাবে মস্কোর জ্বালানি আয় কমাতে গতকাল কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে জি৭। তবে দাম যাতে না বাড়ে, এজন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতের পক্ষে তারা।

এদিকে চীনে নতুন করে করোনা বিধিনিষেধের শঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা। চেংদু শহরে গত বৃহস্পতিবার লকডাউন আরোপ করে স্থানীয় নগর কর্তৃপক্ষ। ভলভোসহ বিভিন্ন বড় কোম্পানির কারখানা থাকায় বিশ্ববাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে সাংহাই, কুনশান ও বেইজিংয়ে কয়েক সপ্তাহের কঠোর লকডাউনে পুরো সরবরাহ চেইন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এতে শিল্পোৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় চীনের অর্থনীতিতে যেমন শ্লথগতি নেমে এসেছে, তেমনি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়েছে।

আইজির মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট ইয়াপ জুন রং জানান, সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দামে পতন দেখা গিয়েছে। সম্প্রতি চীনে করোনা লকডাউনের কারণে চাহিদায় সম্ভাব্য শ্লথগতিতে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী থাকতে পারে।

চীনের সরকারি উপাত্তে দেখা গিয়েছে, চাহিদা হ্রাসের কারণে আগস্টে চীনের কারখানা কার্যক্রম তিন মাসের মধ্যে প্রথম সংকুচিত হয়েছে। বিদ্যুত্স্বল্পতা ও করোনার প্রাদুর্ভাব উৎপাদন ব্যাহত করেছে।