যুক্তরাষ্ট্রের স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড ডিডিজি স্কিনকেয়ার হোল্ডিংসকে প্রায় ৪৫ কোটি ডলারে কিনে নেবে জাপানি কসমেটিকস কোম্পানি সিসোদো। সিসোদো চীনের বাইরে নতুন প্রবৃদ্ধি তৈরির কৌশল হিসেবে অধিগ্রহণটি করবে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ডিডিজি স্কিনকেয়ারের সব পণ্য কিনবে সিসোদো। ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে অধিগ্রহণটি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

ডিডিজি স্কিনকেয়ার তার হাই অ্যান্ড ড. ডেনিস গ্রস স্কিনকেয়ার পণ্যগুলোর জন্য বাজারে পরিচিত। ২০০০ সালে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এ স্কিনকেয়ার লাইনআপ চালু করেছিলেন।

বর্তমানে ‘‌ডার্মাকসমেটিকস’ আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ত্বকের স্বাস্থ্য ও চর্মরোগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি স্কিনকেয়ার পণ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মতো উন্নত বাজারে ব্যাপক পরিমাণে জনপ্রিয়।

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম কসমেটিকস বাজারগুলোর মধ্যে একটি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে। এখন পর্যন্ত চীন হচ্ছে সিসোদোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক বাজার। ২০২২ সালে চীনে কোম্পানিটির বিক্রি ২৫ হাজার ৮২০ কোটি ইয়েন অর্থাৎ ১৮০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা জাপানের বাজারের চেয়েও বেশি।

অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও ক্রমবর্ধমান স্থানীয় প্রতিযোগিতার মধ্যে ২০২৩ সালে চীনে ব্যবসা মন্থর ছিল। চীনে অন্যান্য জাপানি ব্র্যান্ডের মতো সিসোদোও ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পরিশোধিত বর্জ্য পানি সমুদ্রে ছেড়ে দেয়ার জাপানের সিদ্ধান্তের কারণে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে।

২০২৩ সালে সিসোদোর মুনাফা ৪৭ শতাংশ কমে ১৫ কোটি ৮০ হাজার ডলারে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এটি সিসোদোর জন্য প্রথম মার্কিন ক্রয় নয়। এর আগে ২০১০ সালে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারে বেয়ার মিনারেলস ব্র্যান্ডটি কিনেছিল। তবে পরে কঠোর প্রতিযোগিতার কারণে ব্র্যান্ডটি বিক্রি করে দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের প্রসাধনী বাজার ও পণ্য বিক্রি গত বছর ৩ হাজার কোটি ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ২০২১ সালের বিক্রয়ের তুলনায় বেড়েছে ৪ শতাংশ। আরমানি, শার্লোট টিলবারি ও ফেন্টির মতো স্টোরগুলো জমজমাট ছিল। বছরওয়ারি বিক্রি বেড়েছে ১৫ শতাংশ। তালিকায় মেকআপ, ত্বকের যত্ন, সুগন্ধি, চুলের যত্ন সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় উপাদানও রয়েছে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা চললেও এর প্রভাব পড়েনি প্রসাধনী খাতে। বিশেষ করে ২০০১ সালে অর্থনৈতিক মন্দার সময়েও লিপস্টিকের চাহিদা কমেনি। তার পর থেকে ‘‌লিপস্টিক ইনডেক্স’ বলে নতুন একটি পরিভাষা ব্যবহার করেন অর্থনীতিবিদরা। পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী গ্রেট ডিপ্রেশন কিংবা আরো পরে ২০২০ সালের নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবেও দেখা গেছে একই বৈশিষ্ট্য।