শক্তিশালী সিঙ্গাপুর ডলার মূল্যস্ফীতি প্রশমনে সাহায্য করলেও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনিটারি অথরিটি অব সিঙ্গাপুর (এমএএস)। খবর স্ট্রেইটস টাইমস।

কোনো দেশের মুদ্রা শক্তিশালী হওয়ার অর্থ অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে এর মূল্যবৃদ্ধি। বিশেষ করে শক্তিশালী দেশীয় মুদ্রা আমদানীকৃত পণ্যকে সস্তা ও জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বিনিময় হারের ওপর এর বিপরীত প্রভাবও বিদ্যমান।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নেতিবাচক মুদ্রা বিনিময় প্রভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমএএস। মার্কিন ডলার, ইউরো, জাপানি ইয়েন ও ব্রিটিশ পাউন্ডের বিপরীতে স্থানীয় ডলারের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় নেতিবাচক বিনিময় হারের প্রভাবে এ ক্ষতির পরিমাণ ২ হাজার ১৪০ কোটি ডলার।

সিঙ্গাপুরের বৈদেশিক রিজার্ভ পরিচালনার পাশাপাশি এমএএসের পোর্টফোলিওর অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা সংরক্ষণ করে। বৈদেশিক এ মুদ্রাকে যখন শক্তিশালী বিনিময় হারের বিপরীতে দেশীয় মুদ্রায় ভাঙানো হয়, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যালান্স শিট ক্ষতি হতে পারে, যা মূলত নেতিবাচক মুদ্রা বিনিময় প্রভাব হিসেবে পরিচিত। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে এমএএসের নিট ক্ষতির পরিমাণ ৩ হাজার ৮০ কোটি ডলার। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রবি মেনন বলেন, ‘‌এ পর্যন্ত যা রেকর্ডকৃত সবচেয়ে বড় ক্ষতি।’

বিপরীতে ৬০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ লাভ করেছে এমএএস। গতকাল এমএএস ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ মূল্যস্ফীতি পূর্বাভাসকে ২ দশমিক ৫ থেকে বাড়িয়ে ৩ শতাংশে উন্নীত করে, যা এপ্রিলের ২ দশমিক ৫ শতাংশ পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়েছে, মুদ্রা বিনিময় হারের প্রভাব অফিশিয়াল বৈদেশিক রিজার্ভের আন্তর্জাতিক ক্রয়ক্ষমতার ওপর বা এমএএসের আর্থিক নীতি পরিচালনা কিংবা আর্থিক স্থিতিশীলতা সক্ষমতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। কারেন্সি ট্রান্সলেশনের প্রভাব মূলত এমএএসের বিনিময় হারভিত্তিক আর্থিক নীতির ফল।

এ সম্পর্কে রবি মেনন আরো বলেন, ‘‌নেতিবাচক মুদ্রা বিনিময়ের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। তবে এটিকে এড়ানোর চেষ্টা করারও অর্থ নেই। এমএএস ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে তার নীতিগত অবস্থানের জন্য একাধিক কঠোর ব্যবস্থা কার্যকর করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের পদক্ষেপে সিঙ্গাপুর ডলারের মূল্য শক্তিশালী হয়।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সিঙ্গাপুরের মূল্যস্ফীতির হার শীর্ষ ৭ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছে। গত মে মাসে যা খানিকটা কমে হয় ৫ দশমিক ১ শতাংশ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকৃত মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, মে মাসে যা কমে হয়েছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

এমএএসের বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের শেষ ছয় মাসে মূল্যস্ফীতি আরো কমা উচিত, কারণ আমদানি ব্যয় কমার পাশাপাশি দেশীয় শ্রমবাজার পরিস্থিতিও উন্নতির দিকে।