পাম অয়েল রফতানিতে সরকারি বিধিনিষেধ শিথিল করেছে ইন্দোনেশিয়ার সরকার। গতকাল দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দেয়। পণ্যটির রফতানি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খবর রয়টার্স।
পাম অয়েল উৎপাদন ও রফতানিতে ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের শীর্ষ দেশ। পণ্যটি বিক্রির ক্ষেত্রে দেশটির সরকারের একটি পলিসি রয়েছে। এর আওতায় উৎপাদকদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পাম অয়েল স্থানীয় বাজারে বাধ্যতামূলক বিক্রি করতে হয়। পলিসিটি ম্যানডেটরি ডমিস্টিক সেলস বা ডিএমও নামে পরিচিত।
ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ডিএমও পলিসির সীমা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উৎপাদকদের প্রতি মাসে তিন লাখ টন পাম অয়েল স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে হবে। আগামী মাস থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এ সিদ্ধান্তে উৎপাদকরা আগের চেয়ে বেশি পাম অয়েল রফতানি করার সুযোগ পাবেন। কারণ স্থানীয় বাজারে তাদের কম বিক্রি করতে হবে।
বিদ্যমান নীতি অনুযায়ী, উৎপাদকরা যে পরিমাণ পাম অয়েল রফতানি করবেন তার ছয় গুণ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে হবে। নতুন সিদ্ধান্তে সেটি কমিয়ে চার গুণ করা হয়েছে।
ইসি করিম নামে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ডিএমও পলিসি শিথিল করায় আগামী মাস থেকে মোট রফতানির আকার আরো বড় হবে।
ডিএমওর সীমা কমানোর মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার সরকার পাম অয়েল ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিযোগিতা ও রফতানি বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছে। ডিএমও পলিসির কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় দেশটিতে পাম অয়েলের সরবরাহ বেড়েছে মাত্রাতিরিক্ত। বিপরীতে কমেছে রফতানি। স্থানীয় বাজারে পণ্যটির দামও কমেছে ব্যাপক হারে। ডিএমও পলিসি শিথিল হওয়ায় দাম আবারো স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ কমার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ায় রমজান মাসে পাম অয়েলের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে যায়। এ সময় বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশটির সরকার বছরের শুরুতেই পণ্যটির রফতানি কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
এর
আগে গত বছর সব
ধরনের পাম অয়েল পণ্য রফতানি বন্ধ ঘোষণা করে ইন্দোনেশিয়া। এ নিষেধাজ্ঞা বজায়
ছিল টানা তিন সপ্তাহ। স্থানীয় বাজারে পাম অয়েলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া
হয়েছিল। ফলে বড় ধরনের ধাক্কা
খায় বিশ্ববাজার। তিন সপ্তাহ পরে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিলেও ডিএমও পলিসির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয় রফতানিতে। সরবরাহ
ও চাহিদা পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার চাইলে যেকোনো সময় এ নীতিমালায় পরিবর্তন
আনতে পারে।










