নারায়ণগঞ্জে খুচরা বাজারের দোকানগুলোয় সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে না। এ কারণে নতুন দাম নির্ধারণের পরও দোকানগুলোতে একই তেল বিক্রি হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন দামে। বিশেষ করে বোতলজাত সয়াবিন তেলের পাঁচ বা আট লিটারের কনটেইনার অনেক দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে না। আবার অনেক কোম্পানি শর্তযুক্ত করে দিচ্ছে পাঁচ লিটারের এক কনটেইনার সয়াবিন তেলের সঙ্গে কিনতে হবে এক কেজি পোলাউয়ের চাল।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মিল মালিকদের জন্য নতুন মূল্য নির্ধারণ করে দেয়ার পর হঠাৎ করেই বাজারের বিভিন্ন দোকানে সারি সারি সাজানো কনটেইনার বোতল উধাও হয়ে গেছে। দাম বাড়ার পর মিল গেট থেকে ডিলার বা পাইকারি পর্যায়ে বোতলজাত যে তেল সরবরাহ করা হয়েছে সেগুলো সব দোকানে এখনো পৌঁছেনি। এ সুযোগে দোকানিরা ইচ্ছেমাফিক দাম রাখছেন ক্রেতাদের কাছ থেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সয়াবিন তেলের বোতল প্রতি লিটার মিল রেট নির্ধারণ করেছে ১৮৭ টাকা। অর্থাৎ পাঁচ লিটার কনটেইনার ৯৩৫ টাকা। আর খুচরা বাজারের রেট নির্ধারিত হয়েছে ৯৫০ টাকা। কিন্তু বোতলজাত তেলের সরবরাহ কম থাকায় অনেক দোকান থেকেই সয়াবিন তেল সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে আরো ১০-২০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা।
নিতাইগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী দীলিপ সাহা জানান, রোজার আগে সরকার সয়াবিন তেলের আমদানি এবং উৎপাদনের ওপর ১৫ শতাংশ করে মোট ৩০ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ করে। কিন্তু ৩০ এপ্রিলের পর সরকার আমদানি ও উৎপাদনের ওপর যে রেয়াদ ঘোষণা করেছিল সেটি উঠিয়ে দেয়ার পর মিল মালিকরা সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নতুন দর নির্ধারণ করেন। কিন্তু সেই দরে মিল থেকে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে বড় বাজার দ্বিগুবাবুর বাজারের ব্যবসায়ী সত্যজিৎ সাহা জানান, বোতলজাত সয়াবিন তেলের কনটেইনার পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘বোতলজাত সয়াবিন সরাসরি মিল থেকে সরবরাহ করা হয়। ডিলার বা পাইকারের হাত ঘুরে আমাদের দোকানে আসে। এ কারণে বোতলজাত তেলের কনটেইনারের সংকট হচ্ছে।’ বাজারের আরেক ব্যবসায়ী সোহরাব উদ্দিন জানান, বাজারে বোতলজাত তেলের সংকট দেখে দুয়েকটি কোম্পানি পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের সঙ্গে এক কেজি পোলাউয়ের চাল কেনার শর্ত যুক্ত করে দিচ্ছে।










