‘প্রাউড টু পে’ (কর দিতে পেরে গর্বিত) শীর্ষক এক অভিযানের অংশ হিসেবে তারা নতুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন। খবর ফরচুন।
চিঠিতে বলা হয়, ‘আমরা কর দিতে পারি। আমাদের সে সামর্থ্য আছে।’"
তাদের মতে, দৈনন্দিন খাটাখাটুনি করা সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে কর না চাপিয়ে, ধনীদের পুঞ্জীভূত সম্পদের ওপর কর বাড়ানো হোক।
প্যাট্রিয়টিক মিলিয়নেয়ার্স ইউকে নামক সংগঠনের উদ্যোগে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে কোটিপতিরা ১ কোটি পাউন্ডের (প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ ডলার) বেশি সম্পদের ওপর বার্ষিক ২ শতাংশ হারে ধনকুবের কর বা ‘ওয়েলথ ট্যাক্স’ আরোপের প্রস্তাব করেন। যুক্তরাজ্যে ৮০ শতাংশ মিলিয়নেয়ার প্রস্তাবটি সমর্থন করেছেন।
গবেষকদের মতে, এমন একটি সংস্কার থেকেই বছরে প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি পাউন্ড বা ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলার বাড়তি রাজস্ব আহরণ করা সম্ভব।
এছাড়া মূলধনি মুনাফা বা ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্সের হার সাধারণ আয়করের সমান করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। সংগঠনটি অর্থ পাচার বন্ধ ও উত্তরাধিকার কর শক্তিশালী করার মতো ১০টি অর্থনৈতিক সংস্কারের কথা বলেছে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে দেশটি বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি পাউন্ড বা ৬ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার নতুন রাজস্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশটির স্বনামধন্য তারকারা এ উদ্যোগ সমর্থন করে চিঠিতে সই করেছেন। প্রখ্যাত ফুটবল তারকা ও ধারাভাষ্যকার গ্যারি লিনেকার, খ্যাতিমান সংগীত প্রযোজক ব্রায়ান ইনো, চলচ্চিত্র অভিনেতা সাইমন পেগ ও পরিচালক রিচার্ড কার্টিসের মতো ব্যক্তিরা এতে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
গ্যারি লিনেকার বলেন, ‘ন্যায্য কর দেয়া ব্রিটেনের একটি মৌলিক মূল্যবোধ। বর্তমানে সাধারণ মানুষ সামর্থ্যের চেয়ে বেশি কর দিচ্ছে। অথচ অতিধনীরা আরো বেশি ভূমিকা রাখতে সক্ষম ও আগ্রহী।"জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট ও বৈষম্য বর্তমানে যুক্তরাজ্যে চরম ধনবৈষম্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট চলছে।’
ইউরোপের উন্নত দেশগুলোর মধ্যে ব্রিটেনে আয়ের বৈষম্য সবচেয়ে বেশি। ২০২৬ সালের একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির মোট সম্পদের ২১ দশমিক ৩ শতাংশের মালিক যুক্তরাজ্যের শীর্ষ ১ শতাংশ ধনী। অন্যদিকে নিচের সারির ৫০ শতাংশ মানুষের কাছে রয়েছে দেশটির ৪ দশমিক ৬ শতাংশ সম্পদ। সাধারণ আয়ের একজন কর্মীকে শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষের সমপরিমাণ সম্পদ অর্জন করতে অন্তত ৫২ বছর কাজ করতে হবে।
অভিযানে অংশ নেয়া ধনীরা মনে করছেন, অতিরিক্ত করারোপের মাধ্যমে অর্জিত রাজস্ব শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় করলে বৈষম্য কমবে। এতে দেশে কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে।










