ভারতের প্লাটিনাম আমদানি গত মাসে কয়েক গুণ বেড়ে রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব স্বর্ণে স্বল্প পরিমাণ প্লাটিনামের উপস্থিতি রয়েছে, পরিশোধন কোম্পানিগুলো গত মাসে সেসব স্বর্ণ বিপুল পরিমাণে আমদানি করেছে। কিন্তু শুল্ক বিভাগে এগুলোকে প্লাটিনাম হিসেবেই দেখানো হয়েছে। উদ্দেশ্য উচ্চমাত্রার শুল্ক এড়ানো। এ কারণেই কাগজে-কলমে প্লাটিনাম আমদানির পরিমাণ বেড়েছে।
আগে স্বর্ণ, রৌপ্য ও প্লাটিনামের ক্ষেত্রে একই শুল্ক দিতে হতো। কিন্তু শুল্ক নীতিতে পরিবর্তন আসায় এখন আলাদা আলাদা হারে শুল্ক দিতে হয়। পরিবর্তিত এ নীতির সুবিধা নিয়েছে পরিশোধন কোম্পানিগুলো।
জুলাইয়ে নয়াদিল্লি স্বর্ণের আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করে। কিন্তু প্লাটিনামের ক্ষেত্রে শুল্কহার ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়।
শিল্পসংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শুল্কহারে পরিবর্তন আসায় আমদানিকারকরা ফাঁকি দেয়ার কৌশল অবলম্বন করছেন। তারা আগস্টে প্রাথমিকভাবে খুব স্বল্প পরিমাণ আমদানি করেছেন। ওই সময় ৩ শতাংশ প্লাটিনাম আমদানি করা হয়। আর সেগুলো প্লাটিনাম অ্যালয় হিসেবে দিল্লি শুল্ক বিভাগ থেকে ছাড় পেয়ে যায়।
আর ছাড় পেয়ে যাওয়ার কারণে তারা পরবর্তী সময়ে প্লাটিনামের নামে স্বর্ণ আমদানি বাড়িয়ে দেয়। অল্প সময়ের মধ্যে আরো পরিশোধন প্রতিষ্ঠান ও ট্রেড হাউজ এ কৌশল অবলম্বন করতে শুরু করে। এর ফলে গত মাসে ভারতের প্লাটিনাম আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ টনে। অথচ গত বছরের একই সময় আমদানির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ১৪ টন। গত বছরজুড়ে ভারত সব মিলিয়ে আমদানি করেছিল ১০ দশমিক ৫৯ টন প্লাটিনাম। মুম্বাইভিত্তিক এক ডিলার বলেন, পরিশোধন কেন্দ্রগুলো সরকারি নিয়মের সুযোগ নিচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভারত প্রায় ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের স্বর্ণালংকার আমদানি করে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় স্বর্ণালংকার আমদানি বেড়েছে ২০০ শতাংশ। গত অর্থবছর প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের স্বর্ণালংকার আমদানি করা হয়। গত কয়েক মাসে মোট পণ্য আমদানিতে স্বর্ণের হিস্যাও বেড়েছে প্রবলভাবে। স্বর্ণ আমদানিতে এমন উল্লম্ফন দেশটির নীতিনির্ধারকদের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারতে স্বর্ণ আমদানিকে কম গুরুত্বপূর্ণ আমদানি পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মূল্যবান ধাতুটির আমদানি কমিয়ে আনতে নানা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে দেশটির সরকার। এর মধ্যে অন্যতম স্বর্ণ আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে ভারত নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ডেল্টার দ্রুত ও প্রাণঘাতী সংক্রমণ রোধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে দেশটিতে করোনার তৃতীয় ঢেউ আঘাত হানার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ সময় অর্থনীতিতে আবারো স্থবিরতার উদ্বেগে ভারতের ধনীরা স্বর্ণ কিনে মজুদ করে রাখছেন।










