বিশ্ববাজারে পরিশোধিত তামার ঘাটতি অব্যাহত বাড়ছে। বিনিয়োগস্বল্পতা, নতুন উত্তোলন প্রকল্পের অভাব, অর্থনৈতিক মন্দা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ধাতুটির বৈশ্বিক উত্তোলন সংকটের মুখে। বাজারে চাহিদার অনুপাতে সরবরাহ নেই।

ইন্টারন্যাশনাল কপার স্টাডি গ্রুপ (আইসিএসজি) শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২২ সালে (জানুয়ারি-জুলাই) বাজারে ৩ লাখ ৮৪ হাজার টন তামার ঘাটতি দেখা দেয়। ২০২১ সালের একই সময়ের চেয়ে যা তিন হাজার টন বেশি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, অক্টোবরে বিশ্ববাজারে ধাতুটির উদ্বৃত্ত ছিল ৬৮ হাজার টন। কিন্তু নভেম্বরে ৮৯ হাজার টনের ঘাটতি দেখা দেয়। নভেম্বরে বিশ্বজুড়ে পরিশোধিত তামা উৎপাদন হয়েছে ২২ লাখ টন। আর ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ২৩ লাখ টন।

গবেষণা সংস্থা ফিচ সলিউশনস কান্ট্রি রিস্ক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ জানিয়েছে, চীনের মূলভূমিতে আবার চাহিদার প্রত্যাবর্তন এবং আমদানি আরো ব্যয়বহুল হওয়ায় তামার দাম বেড়ে যেতে পারে। ডাচ বহুজাতিক আর্থিক পরিষেবা সংস্থা আইএনজির অর্থনৈতিক ও আর্থিক বিশ্লেষণ বিভাগ আইএনজি থিংক জানিয়েছে, স্বল্প সময়ের জন্য শেয়ার পড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও ২০২৩ সালে সরবরাহের ঘাটতি থাকায় বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকবে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের প্রত্যাশা, চলতি বছরে তামার দাম গড়ে ৯ হাজার ৭৫০ ডলারের ওপরে থাকবে। ২০২৪ সালের দিকে মোট গড় দাম গিয়ে দাঁড়াবে ১২ হাজার ডলারে। বর্তমানে তিন মাসে সরবরাহ দেয়া হবে, এমন তামার দাম পড়ছে টনপ্রতি ৮ হাজার ৩৮৫ ডলার। আর ক্যাশ অন ডেলিভারিতে দিতে হচ্ছে ৮ হাজার ৩৬২ ডলার।

অনলাইন ট্রেড সরবরাহকারী আইজি গ্রুপের আইজি ব্যাংক জানিয়েছে, চীনের মূলভূমিতে চাহিদা বাড়ায় বেড়ে যেতে পারে তামার দাম। সেই সঙ্গে চলতি বছর ধাতুটি সরবরাহ ঘাটতিতে পড়তে পারে। সব মিলিয়ে ধারণা করা হচ্ছে তার, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও শিল্প খাতের মেশিন তৈরির জন্য ব্যবহূত লালচে ধাতুটির দাম ৯ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ফিচ সলিউশন জানিয়েছে, তারাও তামার দামের পূর্বাভাস ৮ হাজার ৪০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে টনপ্রতি ৮ হাজার ৫০০ ডলারে উন্নীত করছে। কেননা দুর্বল সরবরাহ পূর্বাভাসের মধ্যেই চাহিদার পারদ ওপরের দিকে উঠছে। আইজি ব্যাংক জানিয়েছে, তামার দাম ওঠা শুরু হবে ৯ হাজার ৩০ টাকা থেকে আর সেই রেকর্ড ভাঙতে ভাঙতে ৯ হাজার ৭৭০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। সংস্থাটি এও বলছে, তবে এর বদলে যদি তামার দাম কমে ৭ হাজার ৯০০ ডলারের নিচে নেমে যায়। তাহলে পণ্যটি নিয়ে আমাদের পূর্বাভাস আরো একবার বিশ্লেষণ করতে হবে।

গোল্ডম্যান স্যাকস ২০২২ সালে জানিয়েছিল, তামা প্রকল্পগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় মাত্র ২ লাখ ৬৩ হাজার টন তামা পাওয়া গেছে, যা ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

ফিচ সলিউশন বলছে, প্রতিযোগিতাপূর্ণ সরবরাহ ও চাহিদার কারণে ২০২২ সালের তামার দামে অস্থিরতা ছিল। ইউক্রেনে রাশিয়ার চালানো আগ্রাসনের কারণে সরবরাহ ঘাটতিতে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় ওই বছরের ৪ মার্চ দাম সর্বকালের সর্বোচ্চে গিয়ে ঠেকে। সে সময়ে প্রতি টন লেনদেন হয় ১০ হাজার ৬৭৪ ডলারে। এপ্রিলের শেষ দিকে দামে আবার বেশ পতন দেখা দেয়। সামষ্টিক অর্থনীতি এ সময়ে আরো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চীনের মূলভূমিতে ভবিষ্যতের চাহিদা নিয়ে আরো বেশি উদ্বেগ দেখা দেয়। ডলার শক্তিশালী হয়ে ওঠার হারও পণ্যটির চাহিদায় লাগাম টানে। কেননা বিশ্বব্যাপী এ মুদ্রাতেই পণ্যগুলোর লেনদেন হয়।