ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে লোহিত সাগর থেকে জাহাজ সরিয়ে নিচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম শিপিং গ্রুপ মেডিটেরানিয়ান শিপিং কোম্পানি (এমএসসি)। এর আগে একই পদক্ষেপ নিয়েছে ফরাসি কোম্পানি সিএমএ সিজিএম, ডেনিশ শিপিং জায়ান্ট মায়েরস্ক ও জার্মান সংস্থা হ্যাপাগ-লয়েড। খবর বিবিসি।

ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথিদের একের পর এক আক্রমণের সূত্র ধরে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গোষ্ঠীটি বলছে, গাজায় হামলা করে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহতের ঘটনায় তারা ইসরায়েলগামী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

জ্বালানি তেল ও অন্যান্য জ্বালানি চালানের জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ লোহিত সাগর। অভিযোগ উঠেছে, ইসরায়েলকে লক্ষ্য করলেও হুথিরা বিদেশী মালিকানাধীন জাহাজে ড্রোন ও রকেট আক্রমণ বাড়িয়েছে।

ইসরায়েলের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করছে এ গোষ্ঠী। গতকাল শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, লোহিত সাগরে ১৪টি হুথি ড্রোন করে ভূপাতিত করেছে তারা।

গতকাল শনিবার এক ঘোষণায় এমএসসি বলেছে, ওই এলাকার পরিস্থিতি ‘গুরুতর’ হয়ে উঠেছে।

এতে বলা হয়েছে যে তাদের কনটেইনার জাহাজ এমএসসি প্যালাটিয়াম থ্রি শুক্রবার লোহিত সাগরে যাওয়ার পথে আক্রমণের শিকার হয়। ক্রুদের কেউ আক্রান্ত হননি। তবে জাহাজটিকে পরিষেবা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল।

আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তে উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে এ সংস্থার জাহাজ গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে।

অন্যদিকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম শিপিং কোম্পানি সিএমএ সিজিএম বলেছে, তাদের সব কনটেইনার জাহাজকে নিরাপদ এলাকায় পৌঁছানোর এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অবিলম্বে নিরাপদ এলাকায় যাত্রা বিরতির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় বৃহত্তম শিপিং ফার্ম মায়েরস্ক পরিস্থিতিকে ‘আশঙ্কাজনক’ বর্ণনা করে বাব আল-মান্দাব প্রণালীর মধ্য দিয়ে শিডিউল করা সব জাহাজকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বিরতির নির্দেশ দিয়েছে।

লোহিত সাগর এলাকায় কার্যকলাপ সীমিত করা সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে শীর্ষ পাঁচ কোম্পানির চারটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব দিক থেকেই এ সিদ্ধান্ত ব্যয়বহুল হবে।

আলোচিত বাব আল-মান্দাব প্রণালী গেট অব টিয়ার্স নামেও পরিচিতি। চ্যানেলটি চওড়ায় ২০ মাইল। এলাকাটি জাহাজ পরিচালনার জন্য খুবই বিপজ্জনক। এটি আরব উপদ্বীপে ইয়েমেন এবং আফ্রিকার উপকূলে জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মধ্যে অবস্থিত।

এ পথ ধরে জাহাজ দক্ষিণ থেকে সুয়েজ খালে পৌঁছাতে পারে। এটি একটি প্রধান শিপিং লেন হওয়ায় বিকল্প রুটে জাহাজগুলোকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে আফ্রিকার চারপাশ ঘুরে আসতে হবে।

বছরে এ রুটে এক হাজার ৭০০ জাহাজ চলাচল করে, যা বিশ্ব বাণিজ্যের ১০ শতাংশ। সুয়েজের মধ্য দিয়ে ভারত মহাসাগরে যেতে বা বিপরীতমুখী জাহাজকে এ পথে আসতে হয়।