চলমান খরায় সংকটে পড়েছে কানাডার গম আবাদ।
চলতি বছর খাদ্যশস্যটির আবাদ ১৪ বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে।
দেশটির সরকারি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
খবর ওয়ার্ল্ডগ্রেইনডটকম।
প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, শুধু গমই নয়, ক্যানোলা (সরিষার একটি জাত) আবাদও সংকুচিত হয়েছে।
গত নয় বছরের তুলনায় সবচেয়ে কম আবাদ হয়েছে এ তেলবীজের।
কানাডা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গম রফতানিকারক দেশ।
ক্যানোলা উৎপাদনেও দেশটি শীর্ষস্থানীয়।
সম্প্রতি শুষ্ক মাটি এবং রেকর্ড উষ্ণ তাপমাত্রা দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় উৎপাদন বেল্টে কৃষিপণ্য দুটির আবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
খরার কারণে মিল মালিক ও বেকারদের অতিরিক্ত দামে স্প্রিং হুইট কিনতে হচ্ছে।
অন্যদিকে ক্যানোলার দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা চলতি বছরের খাদ্যশস্য উৎপাদন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় ২ কোটি ২৯ লাখ টন গম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এটি গত বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ কম।
এ সময় গড় বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়াবে ২ কোটি ২৬ লাখ টন।
অন্যদিকে চলতি বছর কানাডায় ক্যানোলা উৎপাদন ১ কোটি ৪৭ লাখ টনে পৌঁছতে পারে।
এটি গত বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ কম।
এ বছর পণ্যটির গড় বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ কোটি ৪১ লাখ টন।
কৃষকদের পরামর্শ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইনটেলআইফার্মের প্রেসিডেন্ট ব্রায়ান ভোথ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতারা এরই মধ্যে তাদের গন্তব্য পরিবর্তন করেছেন।
বিভিন্ন দেশের উৎপাদন ও মজুদ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ক্যানোলা আমদানিকারকরা কানাডার পরিবর্তে ইউক্রেনকে বেছে নিতে পারেন।
আমদানিকারকদের পছন্দের তালিকায় পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও অস্ট্রেলিয়াও রয়েছে।
ভোথ আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের শীর্ষ ময়দা উৎপাদনকারী দেশ।
ময়দা তৈরির ক্ষেত্রে দেশটির মিল মালিকরা কানাডীয় গমের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল।
কিন্তু চলতি বছর উৎপাদন ঘাটতি দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্রের মিল মালিকদের বিকল্প হিসেবে অন্যান্য গম উৎপাদন ও রফতানিকারক দেশকে বেছে নিতে হবে।
তবে ভোথ জানান, চলতি বছর গম ও ক্যানোলা উৎপাদন যতটা কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে ততটা কমবে না।
ম্যানিটোবা রাজ্যে প্রত্যাশার তুলনায় ভালো ফলন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে প্রতিবেদন প্রকাশের পর উৎপাদন ঘাটতির আশঙ্কায় আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে ক্যানোলার নভেম্বরে সরবরাহ চুক্তিমূল্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।
মিনিউপলিস গ্রেইন এক্সচেঞ্জে গমের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্যও কিছুটা বেড়েছে।










